সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হওয়া ঐতিহাসিক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিটির পূর্ণাঙ্গ পাঠ অনুমোদনের জন্য পার্লামেন্টে জমা দিয়েছে তুরস্ক সরকার। গতকাল মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যে জোট রাষ্ট্রের নিরাপত্তায় সেনা মোতায়েনের আগে এই গুরুত্বপূর্ণ মক্কা চুক্তি নিয়ে পার্লামেন্টে ভোটাভুটির প্রস্তাব করেন স্পিকার। কূটনৈতিক মহл মনে করছে, এই চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি হতে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যেই এই ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। চুক্তির শর্তানুযায়ী, জোটভুক্ত দেশগুলোর ওপর কোনো ধরনের বাহ্যিক আক্রমণ বা হুমকি সৃষ্টি হলে সম্মিলিতভাবে তার জবাব দেওয়া হবে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিনিময়, যৌথ সামরিক মহড়া এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়টি এতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছে।
তুরস্কের পার্লামেন্টে এই নথি জমা পড়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের নীতিনির্ধারকরাও বিষয়টিকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। এর আগে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কূটনৈতিক সম্পর্কে এক ধরনের স্থবিরতা নেমে এসেছিল এবং বিগত দিনে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের ভুল নীতির কারণে বাংলাদেশ কৌশলগতভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্ব থেকে ছিটকে পড়েছিল।
বর্তমানে পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এই ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় কতটা ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। খুব শীঘ্রই তুরস্কের পার্লামেন্টে এ বিষয়ে চূড়ান্ত ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক ব্রিফিংয়ে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা জানান, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোয় একটি সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন আসবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক