যুক্তরাজ্যের ইসলামি শরিয়াসম্মত সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ তহবিল ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক কোম্পানির শেয়ার কিনতে ১৩ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ ব্যয় করেছে। এই বিষয়টি এমন এক সময়ে সামনে এল যখন গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা বর্বরোচিত হামলা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় বইছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমকে জানান গবেষক ও বিশ্লেষকরা, যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় এই শরিয়াভিত্তিক বিনিয়োগ তহবিলটি মূলত হালাল বা ধর্মীয়ভাবে অনুমোদিত খাতের খোঁজে কাজ করে থাকে। তবে সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে, এই তহবিলের একটি বড় অংশ এমন সব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা হয়েছে যেগুলো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীকে অস্ত্র ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে আসছে। গাজায় চলমান নির্বিচার হত্যাকাণ্ডে এসব প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অত্যন্ত নেতিবাচক বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, শরিয়া নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য হলো নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ রক্ষা করা, অথচ এই তহবিলের অর্থ এমন জায়গায় ব্যবহার করা হচ্ছে যা সরাসরি রক্তপাতের সঙ্গে জড়িত। সংশ্লিষ্ট মহলের পক্ষ থেকে অবিলম্বে এই বিনিয়োগ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে, অন্যথায় বিশ্বজুড়ে বয়কটের মুখে পড়তে পারে এই তহবিল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা ইসলামি শরিয়াভিত্তিক বিনিয়োগের স্বচ্ছতা এবং নীতিগত জবাবদিহিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিনিয়োগ রোধে কঠোর নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জোরালো হচ্ছে, যাতে কোনোভাবেই যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী কার্যক্রমে অর্থায়ন না হয়।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক