বিএনপি ও কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মধ্যে একটি রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছে এবং এর মূল ভিত্তি হলো পুরোনো ও প্রচলিত ‘ভাগাভাগি করে লুটেপুটে খাওয়ার রাজনৈতিক ব্যবস্থা’—এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ নতুন এক পথযাত্রায় পা রাখলেও পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসা সম্ভব হয়নি, যার ফলে নানা মহলে এ ধরনের সমঝোতার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
সাদিক কায়েম বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ এবং শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ লড়াইয়ের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়েছে। কিন্তু একটি চক্র এখনও পুরোনো বন্দোবস্ত টিকিয়ে রাখার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই নানা সমীকরণের মধ্য দিয়ে রাজনীতি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ছাত্রসমাজ কোনো অবস্থাতেই জনগণের অধিকার হরণের এই গোপন সমঝোতা মেনে নেবে না।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে এ ধরনের কঠোর অবস্থান দেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এদিকে, কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দোসররা দেশের বাইরে বসে নানামুখী ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপি দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে এই অভিযোগের বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া জানায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
উল্লেখ্য, বিগত স্বৈরাচারী শাসন আমলে এবং বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রসমাজের ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা ও তার দল কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছিল এবং গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিল। সেই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসান ঘটানোর পর আজও নতুন বাংলাদেশ গড়ার লড়াই অব্যাহত রয়েছে। সাধারণ মানুষ ও তরুণ প্রজন্ম চায় একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত এবং জনগণের জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে কোনো ধরনের অনৈতিক সমঝোতার স্থান হবে না।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক