অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বিয়ে হয়েছিল সুইটি আক্তারের। সেই সংসার টেকেনি। স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর একমাত্র মেয়েকে নিয়ে চলে আসেন বাবার বাড়িতে। এরপর পরিবারের চাপে আরেকজনকে বিয়ে করেন। কিন্তু স্বামী সংসার জীবনে আবারও শুরু হয় নানা টানাপোড়েন।
পরবর্তীতে জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে তিনি নতুন কোনো পথ খুঁজতে থাকেন। পরিবারের অমতে এবং নিজের ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের শিকার হয়ে একপর্যায়ে তিনি জড়িয়ে পড়েন ভিন্ন এক পরিস্থিতির সঙ্গে। সেই প্রেক্ষাপটেই তার জীবনে নেমে আসে আইনি জটিলতা।
আইনগত প্রক্রিয়ার দীর্ঘ লড়াই শেষে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় আসে। রায় কার্যকরের ঠিক দুই দিন আগে শেষবারের মতো বাবার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সুযোগ পেয়েছিলেন সুইটি। সেই কথোপকথনে তিনি পরিবারের কাছে নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে নেন এবং একমাত্র মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেন।
বাবার সঙ্গে সেই শেষ ফোনালাপে সুইটি তার জীবনের সব না-বলা বেদনা তুলে ধরেন। অত্যন্ত আবেগঘন সেই মুহূর্তে বাবাও মেয়েকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাননি। পরবর্তীতে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী রায় কার্যকর করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, যা তার পরিবার ও এলাকাবাসীর মাঝে গভীর শোকের ছায়া ফেলে যায়।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক