হামের বিরুদ্ধে এক সময় অত্যন্ত সফল লড়াই চালিয়েছিলো বাংলাদেশ। সংক্রামক এই রোগটিকে কার্যকর টিকার মাধ্যমে দীর্ঘ বছর ধরে নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলো স্বাস্থ্য বিভাগ। কিন্তু ২০২৫ সালে রাজনৈতিক টালমাটাল পরিস্থিতির প্রভাবে এই অর্জনে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে। সেসময় যাদের হামের টিকা দেওয়ার কথা ছিলো, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তাদের একটি বড় অংশ টিকার বাইরে থেকে যায়। ফলে রোগটির প্রাদুর্ভাব নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়, যা শুধু দেশের ভেতরেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও প্রশাসনিক অস্থিরতার কারণে দেশের টিকাদান কর্মসূচিতে যে ব্যাঘাত ঘটেছিলো, তা বিশ্ববাসীর জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যেকোনো দেশের রাজনৈতিক সংকটের প্রভাব সরাসরি পড়ে স্বাস্থ্য খাতের ওপর। বিশেষ করে শিশুখাদ্য ও টিকাদানের মতো অতি সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে সামান্য বিঘ্ন ঘটলে তা মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনামলে স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে এমনিতেই ভঙ্গুর হয়ে পড়েছিলো জনস্বাস্থ্য অবকাঠামো, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে পরবর্তী সময়েও।
বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা দেশের এই টিকাদান কর্মসূচিকে পুনরায় গতিশীল করতে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। দেশের প্রতিটি প্রান্তে শিশুদের কাছে জীবন রক্ষাকারী টিকা পৌঁছে দিতে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থাগুলো বাংলাদেশের এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানালেও, যেকোনো মূল্যে টিকাদানের হার শতভাগে উন্নীত করার তাগিদ দিয়েছে। দেশের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং স্বাস্থ্য খাতের নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম বজায় রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক