ফ্রান্সে একটি প্রজন্ম বর্তমানে নজিরবিহীন নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে। অথচ তাদের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় শিক্ষাব্যবস্থা আজ তীব্র অর্থসংকটে জর্জরিত। এমন এক জটিল ও সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে দেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি ও তাদের গভীর উদ্বেগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে শোনা উচিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের। বর্তমান সময়ের এই সংকট উত্তরণে নীতিনির্ধারকদের আরও বেশি সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল হওয়ার সময় এসেছে।
১৯৬৮ সালের মে মাসে ফ্রান্সের শিক্ষার্থীদের ঐতিহাসিক বিক্ষোভের অন্যতম বিখ্যাত স্লোগান ছিল সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার পরিবর্তনের ডাক। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আজও তরুণ প্রজন্মের সেই কণ্ঠস্বর ও প্রতিবাদের ভাষা সমানভাবে প্রাসঙ্গিক রয়ে গেছে। দেশের সার্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে তরুণ সমাজের এই আকুতি কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। রাজনৈতিক দলগুলোকে ক্ষমতার হিসেব বাদ দিয়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের যুবসমাজ ও ছাত্ররাজনীতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে বিভিন্ন স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যেভাবে ছাত্রসমাজ রুখে দাঁড়িয়েছিল, ঠিক তেমনিভাবে আজও তাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতনের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তবে কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষায় দেশের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোকে তরুণদের কণ্ঠস্বর শোনার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, কার্যকর গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য শিক্ষা খাতের সংস্কার অপরিহার্য। বর্তমান সময়ে তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখায় তরুণ ও শিক্ষার্থীদের অধিকারের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি শিক্ষার্থীদের মতামতকে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে স্থান দেয়, তবেই একটি বৈষম্যহীন ও উন্নত রাষ্ট্র গঠন সম্ভব। অন্যথায় পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে যেকোনো সময় বড় ধরনের সামাজিক অসন্তোষ তৈরি হতে পারে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক