৪৯তম বিসিএস পরীক্ষা থেকে বাদ পড়ে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মো. ইমরুল হাসান ইমন নামের এক চাকরিপ্রার্থী। বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড বা ব্যক্তিগত আইডিতে এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট দিয়ে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান। তার এই পোস্টটি দ্রুতই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন মহলে আলোচনার সৃষ্টি করে।
গত কয়েক বছর ধরে দেশের সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং বিসিএস পরীক্ষা নিয়ে নানা ধরনের বিতর্ক ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ছিল প্রকট। সেই সময়ে বিভিন্ন নিয়োগ ও পরীক্ষায় বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন অনেক সাধারণ ও মেধাবী প্রার্থী। সম্প্রতি রাষ্ট্র মেরামতের অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের কাজ শুরু করেছে বর্তমান সরকার।
ইমরুল হাসান ইমন তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন যে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এই ধরনের সিদ্ধান্ত হয়তো দেশের সার্বিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ফেরাতে সহায়ক হবে। তিনি তার দীর্ঘ স্ট্যাটাসে বর্তমান প্রশাসনের নানামুখী পদক্ষেপের প্রতি নিজের সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং এই ধরনের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা নিয়োগ জটিলতা ও বৈষম্যের অবসান ঘটাতে পরীক্ষার্থীদের একাংশ প্রশাসনের এমন কঠোর ও নিরপেক্ষ অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। দেশের শিক্ষিত যুবসমাজ এখন চায় মেধার ভিত্তিতে একটি বৈষম্যহীন সমাজ এবং কর্মসংস্থান ব্যবস্থা গড়ে উঠুক। সরকারের নীতিনির্ধারকরাও বারবার আশ্বস্ত করে আসছেন যে, আগামীতে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে সরকারি চাকরির নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক