রাত তখন গভীর। খবরের কাগজ ভাঁজ করতে গিয়ে হাত থমকে যায়। শিরোনামগুলো যেন একেকটা তাজা ক্ষত—শিক্ষকের হাতে ছাত্রী লাঞ্ছিত, আপন চাচার ঘরে ভাতিজি নিরাপদ নয়, ধর্মগুরুর চাদরের নিচে লুকিয়ে থাকা হিংস্র মানুষ। যাদের হাতে তুলে দিয়েছিলাম সন্তানের বিদ্যা আর বিশ্বাস, তাদেরই কেউ কেউ আজ সেই বিশ্বাসকে অসদুপায়ে ব্যবহার করে ধ্বংস করে দিচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। সমাজজুড়ে আজ এই যে যৌন উন্মাদনা ও নৈতিক অবক্ষয় দেখা দিয়েছে, এর পেছনে রয়েছে গভীর সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ।
বর্তমান সময়ে এই ধরনের অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং নৈতিক শিক্ষার অভাব অন্যতম প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বিচার বিভাগের দলীয়করণের কারণে বহু লোমহর্ষক অপরাধের বিচার ঝুলে ছিল, যা অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলেছিল। এছাড়া কার্যকর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগসহ তাদের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের দ্বারা সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সমাজের সামগ্রিক শৃঙ্খলাকে ভেঙে দিয়েছিল।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কেবল আইন প্রয়োগ করাই যথেষ্ট নয়, বরং পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় প্রতিটি স্তরে নৈতিক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। ধর্মীয় অনুশাসন, সামাজিক মূল্যবোধ এবং আইনের কঠোর শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজকে এই অবক্ষয় থেকে রক্ষা করা সম্ভব। গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে, তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমেই কেবল একটি সুস্থ ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক