বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৩ পূর্বাহ্ন

গঙ্গা চুক্তি নবায়ন নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৯:০৮ পূর্বাহ্ণ

চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষেই ৩০ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। ভাটি অঞ্চল বা নিম্ন অববাহিকার দেশ বাংলাদেশ শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানির ন্যায্য অধিকার পাওয়ার লক্ষ্যে ১৯৯৬ সালে এই চুক্তিটি স্বাক্ষর করেছিল। তবে সম্প্রতি এই চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে ভারতের বিহার রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে। বিহারের নীতীশ কুমার প্রশাসন দাবি তুলেছে যে, ফারাক্কা ব্যারাজের প্রভাবে তাদের অঞ্চলে পলি জমে নদীর নাব্যতা কমে যাচ্ছে এবং বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। ফলে চুক্তি নবায়নের বিষয়টি নিয়ে আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর মুখ খুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে গঙ্গা চুক্তি নবায়নের বিষয়ে বিহার সরকারের আপত্তি বা উদ্বেগের বিষয়টিকে তারা গুরুত্বের সঙ্গেই আমলে নিচ্ছেন। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দেশের সবকটি অঙ্গরাজ্যের স্বার্থ রক্ষা করার পাশাপাশি প্রতিবেশী বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী পানিবণ্টন ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করে থাকে। বিশেষ করে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে পানি কূটনীতি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয় হয়ে উঠেছে।

উল্লেখ্য, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন নদীর পানি চুক্তি নিয়ে জনমনে নানা অসন্তোষ ও নায্য হিস্যা না পাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলো দেশের সার্বভৌমত্ব ও পানির নায্য অধিকারের প্রশ্নে অত্যন্ত সোচ্চার রয়েছে। বিশেষ করে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতারা সবসময়ই ভারতের সঙ্গে সমস্ত অমীমাংসিত ইস্যু, বিশেষ করে তিস্তা ও গঙ্গার পানি সমস্যা সমাধানে জোরালো কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ এবং ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা সচল রাখতে গঙ্গা চুক্তি নবায়নের বিকল্প নেই, তবে তা হতে হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে।

ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, চুক্তি নবায়নের প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ এবং এর জন্য দুই দেশের নদী বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এবং কৃষকদের জীবন-জীবিকা বহুলাংশে এই নদীর পানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে চুক্তি নবায়ন নিয়ে সৃষ্ট এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন কীভাবে সমাধান হয়, সেদিকেই এখন সবার নজর রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট

শেয়ার করুন

আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD