শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৬ অপরাহ্ন

১০০ ডলার ছাড়াল জ্বালানি তেলের দাম

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬ ৯:০২ am

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আবার চরমে পৌঁছেছে। এর সরাসরি প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে উঠে এসেছে। গত মে মাসের পর এবারই প্রথম জ্বালানি তেলের দাম আবার এই মাইলফলক স্পর্শ করল।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করার পর কয়েক দিনের ঊর্ধ্বগতির ধারাবাহিকতায় একদিনেই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬ শতাংশের বেশি বাড়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর ফলে সৌদি আরবের জন্য হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে ব্যবহৃত বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পথটিও চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

শুধু তেল নয়, একই সঙ্গে দ্রুত বাড়ছে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও। যুক্তরাজ্যে গ্যাসের বেঞ্চমার্ক মূল্য বর্তমানে প্রতি থার্মে প্রায় ১৫০ পেন্স, যা গত জুনের শেষ দিকে ছিল মাত্র ৯৮ পেন্সের কাছাকাছি।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলাকালে তেলের দাম কিছুটা কমে এসেছিল। এমনকি তা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর আগের পর্যায়েও নেমে যায়। কিন্তু সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর দৃশ্যপট আবারও পুরোপুরি বদলে যায়।

এ সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব এখনো কোনো ধরনের সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত নয়।

মূল্যস্ফীতি ও বিশ্ব অর্থনীতিতে আশঙ্কার মেঘ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ আবারও মারাত্মকভাবে বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। তেলের দাম বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম। এর ফলে সার্বিক পরিবহন ব্যয় বেড়ে খাদ্যসহ সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উস্কে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

ইতোমধ্যেই এর প্রভাব পড়েছে উন্নত দেশগুলোতে।

যুক্তরাজ্য

গত আড়াই সপ্তাহে দেশটিতে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম প্রায় ৫ পেন্স বেড়ে গড়ে ১ দশমিক ৫৬ পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ডিজেলের গড় দাম বেড়ে হয়েছে প্রতি লিটার ১ দশমিক ৭২ পাউন্ড।

যুক্তরাষ্ট্র

দেশটিতে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় দাম আবারও ৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা মাত্র এক মাস আগেও ছিল ৩ দশমিক ৯২ ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি ও ট্রাম্পের অবস্থান

এদিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’-এর চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ কংগ্রেসে স্পষ্ট জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে থাকাকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। মধ্যপ্রাচ্যের চরম সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়লেও মূল্যস্থিতি ফিরিয়ে আনতে ফেড সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাণিজ্যিক সুবিধা নিশ্চিতে ঋণের সুদের হার কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তবুও নীতিগত সিদ্ধান্তে কঠোর ফেড। গত মাসে কেভিন ওয়ার্শের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে ফেড সুদের হার কমায়নি; বরং তা ৩ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের মধ্যেই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

শেয়ার করুন

  • Facebook
  • Twitter
  • Digg
  • Linkedin
  • Reddit
  • Google Plus
  • Pinterest
  • Print
আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD