শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ০৩:১৬ অপরাহ্ন

শম্ভুগঞ্জ চামড়া হাটে বেচাকেনা বন্ধ, হতাশ ব্যবসায়ীরা

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬ ৩:০৯ pm

বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় চামড়ার হাট হিসেবে পরিচিত শহরতলির শম্ভুগঞ্জ হাটে শনিবার (৩০ মে) সাপ্তাহিক বাজার বসার কথা ছিল। তবে হাটে পর্যাপ্ত চামড়া থাকলেও টেনারি মালিক ও পাইকারদের অনুপস্থিতিতে বেচাকেনা কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে চামড়া নিয়ে আসা মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

শনিবার সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত শম্ভুগঞ্জ চামড়া বাজারে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে এ হাটে ময়মনসিংহ বিভাগ ছাড়াও নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা চামড়া নিয়ে আসেন। সাধারণত এখান থেকে ঢাকার টেনারি মালিকরা চামড়া কিনে নিয়ে যান। প্রতি শনিবার নিয়মিত হাট বসার পাশাপাশি ঈদ উপলক্ষে মঙ্গলবারও বিশেষ হাটের আয়োজন করা হয়।

এদিকে, ২০২৬ সালের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কোরবানির পশুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছে। সরকারি নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, ঢাকার ভেতরে গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা।

হালুয়াঘাট থেকে ৪৬টি গরুর চামড়া নিয়ে শম্ভুগঞ্জ হাটে আসেন ব্যবসায়ী রামলাল রবি দাস। কিন্তু কোনো পাইকার বা টেনারির প্রতিনিধি না থাকায় চামড়াগুলো স্তূপ করে কাগজ দিয়ে ঢেকে রেখে চলে যাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, ‘আজকে বড় বাজার হওয়ার কথা, কিন্তু ব্যাপারী নাই একজনও, মাল বেচতে পারতাছি না। ব্যাপারী থাকলে তো মাল বেচতাম। চামড়া নিয়া আমরা এখন বেকায়দায় আছি। ১শ থেকে ৭শ টাকা কাচা চামড়া কিনে ২শ টাকার লবন ও ১শ টাকার শ্রমিক খরচ করতে হয়েছে। এখন বাজারে কেনার লোক নাই। গত দুই তিন বছর ধইরা খালি লস দিতাছি। এমন চললে ব্যবসা বন্ধ কইরা দিতে হবে, এ ছাড়া তো আর কিছু করার নাই।’

একই ধরনের হতাশার কথা জানান মৌসুমী ব্যবসায়ী সুধর রবিন দাস। তিনি বলেন, ‘মাল লইয়া আইছি, অহন তো কিনুয়া লোক আইলো না। চামড়া টাল দিয়া থইয়া যাইতাছি, দেহি আগামী বাজারে কী হয়।’

দীর্ঘদিন ধরে চামড়া ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় পাইকার মো. আবদুল কাদিরও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সরকার দাম নির্ধারণ করে দিলেও আমরা কাঙ্ক্ষিত দাম পাই না। আমি দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে ব্যবসা করি। প্রতি বছর দাম লস করতে করতে এখন সব সম্বল শেষ হয়ে পথে বসার মতো উপক্রম। ট্যানারি মালিকরা যদি সঠিক মূল্য দেন তাহলে হয়তো আমরা আসল নিয়া ঘরে ফিরতে পারবো। আর না হইলে যে অবস্থা আমাদের পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় নাই।

হাটে টেনারি মালিক ও পাইকারদের উপস্থিতি না থাকায় বাজার জমে ওঠেনি বলে জানান হাটের ইজারাদারের প্রতিনিধি মো. মোস্তফা কামাল। তিনি বলেন, আমরা সমস্ত ট্যানারি মালিকদের আহ্বান জায়েয়েছি এখানে এসে চামড়া কেনার জন্য, যাতে চামড়া ব্যবসায়ীরা সঠিক মূল্য পায়। এ বিষয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি। কারণ ট্যানারিরা একটা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এখানে চামড়ার মূল্য একেবারে কমিয়ে দেয়। এতে প্রান্তিক ও মৌসুমী গত বছরও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এইবার সরকার মূল্য দিয়ে টেনারি মালিক চামড়া কিনবে বলে আমর আশা করছি।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকারি মূল্য নির্ধারণ থাকলেও টেনারিগুলোর নিয়ন্ত্রণে বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া যায় না। ফলে বছরের পর বছর লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রান্তিক ও মৌসুমী ব্যবসায়ীদের। এ অবস্থায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন

  • Facebook
  • Twitter
  • Digg
  • Linkedin
  • Reddit
  • Google Plus
  • Pinterest
  • Print
আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD