বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৭ অপরাহ্ন

ভাইরাল কাঁচা ডিমের কফি স্বাস্থ্যের জন্য কতটা নিরাপদ?

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ২:৫১ pm

সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে এখন বিভিন্ন দেশের খাবার খুব সহজেই আমাদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। তেমনই একটি জনপ্রিয় ট্রেন্ড হলো ভিয়েতনামের ‘এগ কফি’। দেখতে ফেনার মতো ক্রিমি, খেতে দারুণ। এই কফি ইতিমধ্যেই অনেকের প্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে বা ঠান্ডা বিকেলে এক কাপ গরম এগ কফি যেন আলাদা আরাম দেয়। তবে প্রশ্ন হলো, এই সুস্বাদু পানীয় শরীরের জন্য কতটা উপকারী?

এগ কফি কীভাবে তৈরি হয়?
এগ কফি মূলত কফি, কাঁচা ডিমের কুসুম, কনডেন্সড মিল্ক এবং চিনি দিয়ে তৈরি করা হয়। ডিমের কুসুম ভালোভাবে ফেটিয়ে ফেনার মতো একটি স্তর তৈরি করা হয়, যা কফির ওপরে দেওয়া হয়। অনেক সময় এতে ক্রিমও ব্যবহার করা হয়, যা স্বাদ আরও সমৃদ্ধ করে তোলে। দেখতে দারুণ আকর্ষণীয় এই পানীয় স্বাদেও বেশ ভিন্নধর্মী।

খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি
এই কফির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো কাঁচা ডিমের ব্যবহার। কাঁচা বা আধসেদ্ধ ডিমে সালমোনেলা নামক ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। এটি শরীরে প্রবেশ করলে ডায়রিয়া, বমি, পেট ব্যথা এবং জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের জন্য এই ঝুঁকি আরও বেশি।

হজমের সমস্যা বাড়াতে পারে
কাঁচা ডিম সহজে হজম হয় না। ফলে অনেকেই এই কফি খাওয়ার পর পেট ফাঁপা, গ্যাস বা অস্বস্তিতে ভোগেন। যাদের আগে থেকেই অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা হজমজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ডিম ও কফির এই মিশ্রণ পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে।

উচ্চ ক্যালোরির ফাঁদ
এগ কফিতে কনডেন্সড মিল্ক, চিনি এবং ক্রিম ব্যবহার করা হয়, যা এর ক্যালোরির মাত্রা অনেক বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত এই পানীয় খেলে ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে। পাশাপাশি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, ডায়াবেটিস এবং কোলেস্টেরল বৃদ্ধির ঝুঁকিও তৈরি হয়।

ক্যাফেইনের প্রভাব
এই পানীয়তে কফি থাকায় এতে ক্যাফেইনও রয়েছে। দিনে একাধিকবার এগ কফি পান করলে শরীরে ক্যাফেইনের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, অস্থিরতা, উদ্বেগ এবং ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তাহলে কি একেবারেই এড়িয়ে চলবেন?
একেবারে না খাওয়াই ভালো, এমনটা বলা যায় না। মাঝে মধ্যে স্বাদের জন্য এই কফি খাওয়া যেতে পারে। তবে সতর্ক থাকতে হবে। পাস্তুরাইজড ডিম ব্যবহার করলে ঝুঁকি কিছুটা কমে। পাশাপাশি চিনি ও কনডেন্সড মিল্কের পরিমাণ কমিয়ে ক্যালোরিও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

স্বাস্থ্যকর বিকল্প কী হতে পারে?
যারা নিয়মিত কফি পান করেন, তাদের জন্য ব্ল্যাক কফি বা কম চিনি ও দুধযুক্ত কফি অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। এতে ক্যালোরি কম থাকে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিও তুলনামূলক কম।

এগ কফি নিঃসন্দেহে সুস্বাদু এবং ব্যতিক্রমধর্মী একটি পানীয়। তবে এটি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করা উচিত নয়। সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ড অনুসরণ করার আগে নিজের স্বাস্থ্যের কথা ভাবা জরুরি। স্বাদ ও স্বাস্থ্যের মধ্যে ভারসাম্য রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

শেয়ার করুন

  • Facebook
  • Twitter
  • Digg
  • Linkedin
  • Reddit
  • Google Plus
  • Pinterest
  • Print
আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD