শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩১ অপরাহ্ন

দুধে ভেজাল আছে কি না পরীক্ষা করবেন যেভাবে

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:৫৫ am

দুধ আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। শিশু থেকে বয়স্ক প্রায় সব বয়সের মানুষের জন্যই দুধ অত্যন্ত উপকারী। সকালে নাস্তা কিংবা রাতে ঘুমানোর আগে অনেকেই নিয়ম করে দুধ পান করেন। এতে রয়েছে ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২, প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম, যা শরীরকে শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে। তবে সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন এই উপকারী খাদ্যেই মেশানো হয় ভেজাল। ভেজাল দুধ শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে নানা রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেজাল দুধে অনেক সময় ডিটারজেন্ট, ইউরিয়া, ফরমালিনসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানো হয়। এসব পদার্থ শরীরে প্রবেশ করলে পেটব্যথা, ডায়রিয়া, বমি ভাব কিংবা বমির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

শুধু তাই নয়, ইউরিয়া ও ফরমালিন কিডনি ও লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে এবং দীর্ঘদিন ধরে এগুলো গ্রহণ করলে গুরুতর রোগ এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ত্বকে অ্যালার্জি, চুলকানি বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যাও দেখা দেয়।

প্যাকেটজাত দুধ কেনার সময় ভেজাল আছে কি না তা সহজে বোঝা যায় না। তাই দুধ বাড়িতে এনে কিছু সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে এর মান যাচাই করা যেতে পারে।

ফেনা পরীক্ষা
দুধে ডিটারজেন্ট মেশানো থাকলে সেটি সহজেই ধরা যায়। একটি বোতলে দুধ নিয়ে ভালোভাবে ঝাঁকান। যদি অতিরিক্ত ফেনা তৈরি হয়, তাহলে বুঝতে হবে দুধে ডিটারজেন্ট মেশানো থাকতে পারে। একইভাবে দুধ ও পানি সমপরিমাণে মিশিয়ে ঝাঁকালে যদি ফেনা তৈরি হয়, তবে সেটিও ভেজালের ইঙ্গিত দেয়।

সাদা দাগ পরীক্ষা
একটু দুধ মাটিতে বা মসৃণ কোনো জায়গায় ঢালুন। খাঁটি দুধ স্বাভাবিকভাবে গড়িয়ে যায় এবং কোনো সাদা দাগ রেখে যায় না। কিন্তু যদি দুধ গড়িয়ে যাওয়ার পর সাদা দাগ থেকে যায়, তাহলে এতে ভেজাল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

ডাল দিয়ে পরীক্ষা
একটি পাত্রে ১-২ চামচ দুধ নিন এবং এর মধ্যে আধা চা চামচ সয়াবিন বা অড়হর ডালের গুঁড়া মিশিয়ে দিন। কয়েক মিনিট পরে এতে লাল লিটমাস পেপার ডুবিয়ে দেখুন। যদি পেপারটি নীল হয়ে যায়, তাহলে বুঝবেন দুধে ইউরিয়া মেশানো হয়েছে।

আয়োডিনে পরীক্ষা
২-৩ মিলিলিটার দুধ জ্বাল দিয়ে ঠান্ডা করুন। এরপর এতে ২-৩ ফোঁটা আয়োডিন মিশিয়ে দিন। খাঁটি দুধ হলে রঙের কোনো পরিবর্তন হবে না। কিন্তু যদি দুধে স্টার্চ বা অন্য কোনো ভেজাল থাকে, তাহলে দুধ হলুদ বা নীলচে রং ধারণ করতে পারে।

লবণ পরীক্ষা
একটি পাত্রে ১-২ চামচ দুধ নিয়ে তাতে ২ চা চামচ লবণ মেশান। যদি দুধের রং নীলচে হয়ে যায়, তাহলে এতে কার্বোহাইড্রেট বা অন্য ভেজাল থাকতে পারে। আর রঙের কোনো পরিবর্তন না হলে দুধ খাঁটি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যদি দুধ গরম করার সময় হলদেটে হয়ে যায়, তাহলে বুঝবেন এতে কার্বোহাইড্রেট মেশানো আছে।

দুধের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যে ভেজাল থাকা স্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই সচেতন হওয়া জরুরি। খুব সহজ কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করেই আপনি দুধের গুণগত মান যাচাই করতে পারেন।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

শেয়ার করুন

  • Facebook
  • Twitter
  • Digg
  • Linkedin
  • Reddit
  • Google Plus
  • Pinterest
  • Print
আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD