মার্কিন প্রতিনিধিরা শান্তি আলোচনার জন্য পাকিস্তানে যাওয়ার প্রেক্ষাপটকে ঘিরে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র এখন যুদ্ধ থেকে ‘সম্মানজনক প্রস্থানের’ পথ খুঁজছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
ইরানি সংবাদমাধ্যম ইসনাতে আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের সামরিক শক্তি আজ এক অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত হয়েছে এবং শত্রু (যুক্তরাষ্ট্র) এখন যুদ্ধের চোরাবালিতে আটকে গেছে, সেখান থেকে সম্মান বাঁচিয়ে পালানোর পথ খুঁজছে।’
এমন এক সময়ে এই মন্তব্য এলো যখন মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সরাসরি কোনো আলোচনার বিষয়টি আপাতত তাদের পরিকল্পনায় নেই।
এদিকে, শনিবার সকাল থেকেই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদকে কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। একদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তার প্রতিনিধি দল নিয়ে শহরে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের ঘোষণা অনুযায়ী, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার আজই পাকিস্তানে পৌঁছাচ্ছেন।
ইসলামাবাদের রেড জোনসহ গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত আধা-সামরিক বাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আকাশপথে নজরদারির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। সিএনএনে প্রকাশিত সাম্প্রতিক ফুটেজে দেখা গেছে, ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চলাফেরার সময় কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। মার্কিন প্রতিনিধিদের আসার আগে নূর খান বিমান ঘাঁটি ও হোটেলগুলোর নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে।
ইসলামাবাদে আলোচনার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে পারস্য উপসাগরে চলমান সংঘাত নিরসন ও হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা কাটানো। হোয়াইট হাউস সরাসরি আলোচনার ব্যাপারে আশাবাদী হলেও তেহরান এখন পর্যন্ত তাদের অনড় অবস্থানে রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আজ সকালেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাদের কোনো ‘সরাসরি বৈঠক’ নির্ধারিত নেই।