ওমান উপসাগরে ইরানের পতাকাবাহী জাহাজ তৌস্কাকে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রী কমান্ড (সেন্টকোম) জব্দ করায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জাহাজটিকে অবিলম্বে ছেড়ে দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া সেই বিবৃতিতে জাহাজ জব্দের এই ঘটনাকে ‘জলদস্যুতা’ এবং ‘সন্ত্রাসী তৎপরতা’ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, “ওমান উপসাগরে ইরানের পতাকাবাহী জাহাজ জব্দ করা মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর একপ্রকার জলদস্যুতা এবং সন্ত্রাসী তৎপরতা। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অবৈধ এবং সহিংস পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছে এবং অবিলম্বে জাহাজটি এবং জাহাজের ক্রু ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছে।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “কারোরই এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয় যে জাতীয় স্বার্থ, নিরাপত্তা, ইরানের জনগণের অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নে ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার আপোসহীন।”
গতকাল রোববার স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে ওমান উপসাগরের উপকূলে ইরানের চাবাহার বন্দরের কাছে তৌস্কাকে জব্দ করে সেন্টাকোম। ইরানের সরকারি জাহাজ সংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক অভ ইরান শিপিং লাইন্স (আইআরআইসিএল) জাহাজটির স্বত্তাধিকারী। আইআরআইসিএল-কে ২০১৯ সালে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
সেন্টকোমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওমান উপসাগরে তৌস্কাকে শনাক্ত করার পর প্রথমে সেটিকে থামার জন্য সংকেত দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তৌস্কা’র ক্রুা সেই নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হয়েছেন।
তৌস্কার ক্যাপ্টেন এবং অন্যান্য ক্রুরা সবাই মার্কিন বাহিনীর হেফাজতে আছেন। জাহাজটিতে কত জন ক্রু ছিলেন— তা জানায়নি সেন্টকোম। এই ক্রুদের সবাই ইরানের নাগরিক না-কি অন্য কোনো দেশের নাগরিকও তাদের সঙ্গে আছেন— তাও এখনও স্পষ্ট নয়।
ইরানের সরকারি জাহাজ সংস্থা আইআরআইএসএল নিয়ন্ত্রণ করে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। আইআরআইএসএলের জাহাজগুলোর ক্যাপ্টেন-ক্রুর পদে সাধারণত ইরানের নাগরিকরাই থাকে, তবে এর বাইরে পাকিস্তান থেকেও ক্রু নেওয়া হয়।
সেন্টকোমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তৌস্কাতে প্রাথমিক তল্লাশি চালিয়ে সেনাবাহিনীতে ‘পুনর্ব্যবহারযোগ্য’ জিনিসপত্র পাওয়া গেছে। তবে সেসব কী— তা উল্লেখ করা হয়নি। তবে সেন্টকোমের অপর একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, জাহাজটিতে ধাতু, পাইপ, ইলেকট্রনিক সরঞ্জামসহ বেশ কিছু উপকরণ পাওয়া গেছে, যেগুলো সেনাবাহিনীর কাজে ব্যবহারযোগ্য।
সূত্র : আনাদোলু এজন্সি