ত্রুটিপূর্ণ গর্ভধারণের ঝুঁকি ও প্রতিকার নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) একটি সায়েন্টিফিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢামেক হাসপাতালের গাইনি বিভাগের ‘ফিটোমেটারনাল মেডিসিন ইউনিট’ এই সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রসূতি মায়ের জেনেটিক রোগ, পুষ্টিহীনতা, ক্ষতিকর কেমিক্যাল, টিন ফুড বা প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ, পরিবেশ দূষণ এবং বেশি বয়সে গর্ভধারণসহ বিভিন্ন কারণে গর্ভস্থ শিশু নানা ধরনের জন্মগত ত্রুটির শিকার হতে পারে।
গত রোববার আয়োজিত এই সেমিনারের মূল উদ্দেশ্য ছিল সুস্থ সন্তান জন্মদানের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও করণীয় সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেওয়া।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ফিটোমেটারনাল মেডিসিনের সহকারী অধ্যাপক ডা. উম্মে সালমা বলেন, ‘ত্রুটি ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু আমাদের কণ্ঠ এক—সচেতনতা, সহানুভূতি এবং সমান সুযোগের দাবি।’
সেমিনারে প্রধান বক্তারা বলেন, যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে ত্রুটিপূর্ণ গর্ভধারণের ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস করা সম্ভব। অবস্টেট্রিকাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিকাল সোসাইটি এবং ফিটোমেটারনাল সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ফিরোজা বেগম জন্মগত ত্রুটি নিরাময়ে নিয়মিত স্ক্রিনিং, সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং আক্রান্তদের প্রতি সংবেদনশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ফিটোমেটারনাল মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তাবাসসুম পারভিন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধে রোগীর পারিবারিক ইতিহাস জানা, নিয়মিত গর্ভকালীন স্ক্রিনিং এবং ফলিক অ্যাসিড সেবন করা অত্যন্ত জরুরি।’
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মাজহারুল শাহীন, উপাধ্যক্ষ ও গাইনি বিভাগীয় প্রধান ডা. মুসাররাত সুলতানা এবং পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামান।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ত্রুটিসম্পন্ন রোগীদের নিয়ে একটি প্র্যাকটিক্যাল আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন সহকারী অধ্যাপক দিনা লায়লা ও আরিফা শারমিন মায়া। সহযোগী অধ্যাপক ডা. তাজমিরা সুলতানার সার্বিক তত্ত্বাবধানে সেমিনার শেষে একটি সচেতনতামূলক নাটিকা প্রদর্শিত হয়। জন্মগত ত্রুটির কারণ ও প্রতিকার নিয়ে রচিত এই নাটিকাটি পরিচালনা করেন ডা. আরিফা শারমিন মায়া।