বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১২:০৩ অপরাহ্ন

৯৮১ দিন পর মাঠে নেমেই রেকর্ড গড়লেন নেইমার

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬ ১০:৫৪ am

২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে উরুগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নেমে ইনজুরিতে পড়েছিলেন নেইমার জুনিয়র। এরপর আর মাঠে ফেরা হয়েছিল না তার। বিশ্বকাপের স্কোয়াডে জায়গা পেলেও দুই ম্যাচ বেঞ্চে বসে কাটাতে হয়েছে এই তারকা ফুটবলারকে। তবে স্কটল্যান্ড ম্যাচে ৭৬ মিনিটে ম্যাথিউস কুনিয়ার পরিবর্তে নেইমার মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গে গ্যালারিজুড়ে শুরু হয় করতালি ও উল্লাস। 

দীর্ঘ পুনর্বাসন ও কঠিন লড়াই শেষে জাতীয় দলের হয়ে তার প্রত্যাবর্তন যেন ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের জন্য এক নতুন আশার বার্তা হয়ে আসে।

দিনের হিসাবে ৯৮১ দিন পর ব্রাজিলের জার্সিতে খেললেন নেইমার। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে উরুগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। 

সেই ম্যাচে ভয়াবহ হাঁটুর চোটে আক্রান্ত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয় ব্রাজিলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ফরোয়ার্ডকে। একাধিক অস্ত্রোপচার ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে আবারও জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামলেন তিনি।

এই প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে নেইমার স্পর্শ করেছেন আরো একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিখ্যাত ‘১০ নম্বর’ জার্সি পরে তার ম্যাচসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪-তে। ফলে তিনি কিংবদন্তি পেলে এবং রিভাল্ডোর পাশে জায়গা করে নিয়েছেন। 

পেলে ও রিভালদোও বিশ্বকাপে ১০ নম্বর জার্সি পরে ১৪টি করে ম্যাচ খেলেছিলেন। নেইমারের এই অর্জন তাকে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের সেরা তারকাদের কাতারে আরো দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

শুধু বিশ্বকাপ নয়, জাতীয় দলের ১০ নম্বর জার্সি পরেও আরেকটি বড় রেকর্ডের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন নেইমার। ব্রাজিলের হয়ে এখন পর্যন্ত এই ঐতিহ্যবাহী জার্সি পরে তিনি খেলেছেন ৯৮টি ম্যাচ। 

এ ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছেন পেলে, যার ঝুলিতে রয়েছে ১০৫টি ম্যাচ। অর্থাৎ শততম ম্যাচের মাইলফলক স্পর্শ করতে নেইমারের প্রয়োজন আর মাত্র দুটি ম্যাচ।

যদিও এই ম্যাচে শুরু থেকেই একাদশে ছিলেন না তিনি, তবে ম্যাচের আগে কোচ আনচেলত্তি জানিয়েছিলেন যে নেইমার পুরোপুরি ফিট এবং প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফেরার জন্য প্রস্তুত। সেই আস্থার প্রতিফলনই দেখা গেছে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে। 

তার উপস্থিতি ব্রাজিলের আক্রমণভাগে বাড়তি আত্মবিশ্বাস এনে দেয় এবং নকআউট পর্বের আগে দলকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

দীর্ঘ ৯৮১ দিনের অপেক্ষা শেষে নেইমারের এই প্রত্যাবর্তন শুধু একজন ফুটবলারের মাঠে ফেরা নয়; এটি অধ্যবসায়, সংগ্রাম এবং প্রত্যাবর্তনের এক অনন্য গল্প। ব্রাজিলিয়ান সমর্থকরা এখন আশা করছেন, বিশ্বকাপের বাকি পথচলায় তাদের সবচেয়ে বড় তারকা আবারও জাদুকরী ফুটবল উপহার দিয়ে দলকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেবেন।

শেয়ার করুন

  • Facebook
  • Twitter
  • Digg
  • Linkedin
  • Reddit
  • Google Plus
  • Pinterest
  • Print
আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD