হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের কাছ থেকে ভবিষ্যতে ‘সার্ভিস ফি’ নামে নতুন ধরণের ফি নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইরান। তবে চীন ও অন্যান্য ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ দেশের জাহাজের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আব্দোলরেজা রাহমানি ফাজলি।
শনিবার (৪ জুলাই) বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড পিস ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে ফাজলি বলেন, হরমুজ প্রণালি পরিচালনার জন্য ইরান ও ওমান যৌথভাবে নতুন ব্যবস্থা প্রণয়নের কাজ করছে।
তাঁর ভাষায়, হরমুজ প্রণালির একটি অংশ ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে হওয়ায় সেখানে নিরাপত্তা ও তদারকিসহ বিভিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে জাহাজের কাছ থেকে সেবা ফি নেওয়া হবে। তবে তিনি দাবি করেন, এটি কোনো টোল নয়।
রাষ্ট্রদূত বলেন, নতুন ব্যবস্থার আওতায় জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নৌযান তদারকি এবং ব্যাপক জাহাজ চলাচলের ফলে সৃষ্ট পরিবেশগত প্রভাব মোকাবিলায় এ ফি ব্যয় করা হবে।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম নুরনিউজ জানায়, চীনসহ ইরানের মিত্র দেশগুলোর জন্য সেবা ফির পরিমাণ ও ধরন নির্ধারণে বিশেষ সুবিধা রাখা হবে।
গত মাসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত বন্ধে হওয়া প্রাথমিক চুক্তিতে বাণিজ্যিক জাহাজকে ৬০ দিনের জন্য বিনা ফিতে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়। তবে ওই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর কী ব্যবস্থা কার্যকর হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এদিকে চলমান আলোচনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, চূড়ান্ত কোনো চুক্তিতে ইরানকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে টোল বা অন্য কোনো ফি আদায়ের অনুমতি দেওয়া হবে না।
বিশ্বের অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সম্পন্ন হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চার মাসের সংঘাতের সময় এ জলপথে চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। পরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে।
ফাজলি বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর হরমুজ প্রণালি এখন শুধু একটি বাণিজ্যিক নৌপথ নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
তিনি জানান, প্রণালি পরিচালনার ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণে ইরান ও ওমান ইতোমধ্যে একটি যৌথ কমিটি গঠন করেছে।