বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ন

বন্ধ হচ্ছে ৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠান, আমানতকারীরা পাবেন সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬ ১২:২৯ pm

দীর্ঘদিন ধরে উচ্চমাত্রার খেলাপি ঋণ ও আমানত ফেরতে ব্যর্থ হওয়ায় পাঁচটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে। এরপর ধাপে ধাপে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর ড. মো. মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বন্ধের তালিকায় রয়েছে এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৭ হাজার আমানতকারীর ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার আমানত আটকে রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, প্রশাসক নিয়োগের পর প্রথম ধাপে একজন আমানতকারী সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন। পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ বিক্রি ও আদায় হওয়া অর্থের ভিত্তিতে বাকি পাওনা পরিশোধের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণের হার অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর মধ্যে এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার প্রায় ১০০ শতাংশ, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ ও দায়-দেনার হিসাব পর্যালোচনা করে গ্রাহকদের অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

এদিকে সংকটে থাকা আরও চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে আপাতত পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স এবং প্রাইম ফাইন্যান্সকে আগামী তিন মাসের মধ্যে আমানত ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা দেখাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মে মাসে আর্থিক খাতে দুর্বল অবস্থানে থাকা ২০টি প্রতিষ্ঠানের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। পরবর্তী মূল্যায়নে যেসব প্রতিষ্ঠানের পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা সন্তোষজনক মনে হয়নি, তাদের মধ্য থেকেই পাঁচটিকে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন

  • Facebook
  • Twitter
  • Digg
  • Linkedin
  • Reddit
  • Google Plus
  • Pinterest
  • Print
আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD