শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৮ অপরাহ্ন

পতিত সরকারের জ্বালানি নীতি ছিল বিতর্কিত : দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ৩:২৮ pm

পতিত সরকারের সময় জ্বালানি নীতি বিভ্রান্তিকর ও বিতর্কিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

তিনি বলেন, আমলা, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের অসাধু যোগসাজশে জ্বালানি খাতে তোষণমূলক নীতি অনুসরণ করা হয়েছিল। উৎপাদনমুখী বিনিয়োগের পরিবর্তে কায়েমী স্বার্থে আমদানিমুখী জ্বালানি নির্ভরতাকে প্রাধান্য দিয়ে এলএনজি নিয়ে আসা হয়েছে। বাপেক্সের মতো প্রতিষ্ঠানকে ঠুঁটো জগন্নাথ করা হয়।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘আগামী বাজেটে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমেই অর্থনৈতিক সুরক্ষা অর্জন করা যাবে’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদে এসব কথা বলেন তিনি।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, জ্বালানি আমদানিতে হরমুজ প্রণালি বড় বাধা নয়। অর্ন্তবর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শেষ মুহূর্তে যে অসম চুক্তি করেছে তা জ্বালানি নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য বড় ঝুঁকি। তবে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া থেকে তেল আমদানির শর্ত এক মাস রহিত করার সুযোগ বাংলাদেশকে নেওয়া উচিত। জ্বলানি নিরাপত্তা ইস্যুতে সরকার যে কেবিনেট সাব কমিটি করেছে, সে কমিটি কি করছে, স্বচ্ছতার মাধ্যমে তা জনগণকে অবহিত করে জাতীয় সংসদে আলোচনার দাবি রাখে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংস্কারের লক্ষ্যে সরকার রিফর্ম কমিশন গঠনের কথা বললেও তা এখনো দৃশ্যমান হয়নি। সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আয় ও প্রণোদনার ক্ষেত্রে সরকার কী ধরনের সংস্কার করতে চায় তা জনসম্মুখে প্রকাশ করা উচিত।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, অতীতে দুর্নীতির কারনে আমরা জ্বালানিতে স্বনির্ভরতা অর্জন করতে পারিনি। দলীয় স্বার্থে জ্বালানি খাতে আমদানি নির্ভরতা বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ উৎপাদনকে উপেক্ষা করা হয়েছিল। তাই আসন্ন বাজেটে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার যখন সংকট মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানামুখী প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে সে সময়ে অর্থনীতির জন্য দুঃসংবাদ হচ্ছে আইএমএফ বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত ঋণের পরবর্তী কিস্তি স্থগিত করেছে। ফলে আইএমএফ থেকে জুনে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ পাচ্ছে না বাংলাদেশ। যা বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

তিনি বলেন, বাজেটে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন থাকতে হবে। সংকটকালে একটি জনবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব, টেকসই ও সাবধানী বাজেট দিতে হবে। সুষম বাজেট না হলে সরকারের জনপ্রিয়তা হ্রাস পেতে পারে। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী নতুন সরকারকে তাদের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে সর্বোচ্চ সাশ্রয়ী হয় এমন বাজেট দেওয়া উচিত। যাতে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের উপর চাপ তৈরি না হয়, জনভোগান্তি না বাড়ে, দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল থাকে।

ছায়া সংসদে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকদের পরাজিত করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক সাইদুল ইসলাম, আলমগীর হোসেন, জিয়াউল হক সবুজ ও শেখ আবদুল্লাহ। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হয়।

শেয়ার করুন

  • Facebook
  • Twitter
  • Digg
  • Linkedin
  • Reddit
  • Google Plus
  • Pinterest
  • Print
আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD