স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্যাতনের শিকার এক ছাত্রের অভিভাবক প্রমাণসহ বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে গত মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় জনতা সেখানে জড়ো হন। এ সময় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে প্রধান শিক্ষক মঈনউদ্দীন কৌশলে স্থান ত্যাগ করে পালিয়ে যান বলে জানা গেছে।
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার ৮ নম্বর জায়লস্কর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ নেয়াজপুরে অবস্থিত মকবুল আহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মঈনউদ্দীন আহমেদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, অপকর্ম ও ছাত্র বলৎকারের অভিযোগ উঠেছে। মূলতঃ বিষয়টি গত সপ্তাহে ফেনী পৌরসভার মধ্যম চাড়িপুর স্কুলের এক ছাত্রকে নির্যাতনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্যাতনের শিকার এক ছাত্রের অভিভাবক প্রমাণসহ বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে গত মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় জনতা সেখানে জড়ো হন। এ সময় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে প্রধান শিক্ষক মঈনউদ্দীন কৌশলে স্থান ত্যাগ করে পালিয়ে যান বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, মঈনউদ্দীন দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছে। এর আগেও একাধিকবার এমন অভিযোগ উঠলেও তিনি প্রভাব খাটিয়ে কিংবা ভয় দেখিয়ে শাস্তি এড়িয়ে যান। স্থানীয়দের দাবি, তার বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করলেই হয়রানির শিকার হতে হয়।
এর আগে, গত ২৪ মে ২০২৫ তারিখে এলাকাবাসী ও সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা বাদী হয়ে দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নোয়াখালী জোন অফিসে প্রধান শিক্ষক মঈনউদ্দীনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অপকর্মের তদন্ত চেয়ে লিখিত আবেদন করেন।
অভিভাবকরা জানান, প্রধান শিক্ষক মঈনউদ্দীন আহমেদ চৌধুরী নিজেকে রাজনৈতিক প্রভাবশালী হিসেবে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দায়মুক্ত থেকে আসছেন। এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গত ১৫ বছর তিনি নিজেকে আওয়ামী লীগের লোক বলে পরিচয় দিতেন। তিনি বলেন, ‘আমার কিছুই হবে না।’ — এই মানসিকতা শিক্ষাঙ্গনের জন্য ভয়ানক।”
অভিযোগ রয়েছে, গত কিছু দিন আগে অভিভাবক ও গণ্যমান্য এলাকাবাসীর সম্মতিক্রমে দাগনভূঞা উপজেলা সাবেক নির্বাহী অফিসার স ম আজহারুল ইসলামকে প্রধান করে একটি এডহক কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি তার দুর্নীতি ও অপকর্মের বিষয়ে তদন্ত শুরু করলে প্রধান শিক্ষক মঈনউদ্দিন কাউকে কিছু না জানিয়ে তার পছন্দের পুরানো একটি বিলুপ্ত ম্যানেজিং কমিটি করে অনুমোদনের জন্য শিক্ষা বোর্ডে প্রেরণ করেন।
এর আগে স্কুলের এক ছাত্রকে বলৎকার করে সালিশি মাধ্যামে টাকা দিয়ে ঘটনার ধামা চাপা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে প্রধান শিক্ষক মঈনউদ্দিনের বিরুদ্ধে।
এলাকাবাসী আরও অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক মঈনউদ্দিন স্কুলের টাকা আত্মসাৎ ও দুর্নীতি করে ফেনীতে ২টি বাড়ির মালিক হয়েছেন যা সমাজে বিরল ঘটনা।
অভিযোগকারীদের একজন দাবি করেন, দুর্নীতিবাজ এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্ত করলে সব কিছুর প্রমাণ মিলবে, আর যদি অভিযোগগুলো মিথ্যা হয় তাহলে আমরা শাস্তি ভোগ করতে রাজি আছি। অভিভাবকরা বলছেন, এমন দুর্নীতিবাজ, লম্পট, চরিত্রহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক থাকলে আমরা এখানে সন্তানদের পড়াতে চাইনা। আমরা অনতিবিলম্বে মকবুল আহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তার অপসারণ চাই।
এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা আরও বলেন, অভিযোগ ওঠা এই প্রধান শিক্ষককে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়বে। জানা গেছে, বর্তমানে জনরোষের ভয়ে প্রধান শিক্ষক মঈনউদ্দীন আত্মগোপনে রয়েছে।