বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৩ অপরাহ্ন

জরিপে প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্ট ৭৫.৩%

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬ ৩:২৪ pm

দেশের তিন-চতুর্থাংশের বেশি মানুষ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দায়িত্ব পালনের ধরনকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করছেন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডেল্টাগ্রামের এক জাতীয় জনমত জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

১২ থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত দেশের তিন হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর এই জরিপ পরিচালিত হয়। ডেল্টাগ্রামের প্রশিক্ষিত সাক্ষাৎকারগ্রহণকারীরা সরাসরি মাঠপর্যায়ে জরিপটি সম্পন্ন করেন।

জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের দায়িত্ব পালনের প্রতি তারা সন্তুষ্ট।

১৭ দশমিক ৫ শতাংশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আর ৭ দশমিক ২ শতাংশ এ বিষয়ে কোনো মতামত দেননি।

বিভাগভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি সমর্থন পাওয়া গেছে রংপুর বিভাগে, যেখানে সন্তুষ্টির হার ৮৩ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে সবচেয়ে কম সমর্থন পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে এ হার ৭০ দশমিক ৪ শতাংশ।

শহর ও গ্রামের মধ্যে মতামতের পার্থক্যও উঠে এসেছে জরিপে। গ্রামীণ এলাকার ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। শহরাঞ্চলে এ হার ৭০ দশমিক ১ শতাংশ।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় সব বয়সী মানুষের মধ্যেই সমর্থনের হার কাছাকাছি। তবে ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এ হার তুলনামূলক কম, যা ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ।

জরিপে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিজয়ের মাধ্যমে ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। সরকার গণভোটে অনুমোদিত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা নির্ধারণ এবং দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের বিষয়ও রয়েছে।

ডেল্টাগ্রাম জানিয়েছে, জরিপটি পরিকল্পনা, অর্থায়ন, পরিচালনা এবং তথ্য সংগ্রহ—সবই তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় করা হয়েছে। কোনো বাণিজ্যিক জরিপ প্রতিষ্ঠানকে এ কাজে যুক্ত করা হয়নি। জরিপ পরিচালনার আগে সাক্ষাৎকারগ্রহণকারীদের প্রশ্নপত্র ব্যবহার ও নমুনা নির্বাচন পদ্ধতি বিষয়ে ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সাক্ষাৎকার সম্পন্ন হওয়া, সাক্ষাৎকারে অস্বীকৃতি এবং যোগাযোগ ব্যর্থ হওয়ার তথ্যও সংরক্ষণ করা হয়েছে।

জরিপে রংপুর ও ঢাকার ফলাফলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেলেও গবেষকরা এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, বিভাগভিত্তিক নমুনা জাতীয় পর্যায়ের তুলনায় ছোট হওয়ায় এ ধরনের পার্থক্যের একটি অংশ নমুনা নির্বাচনের স্বাভাবিক তারতম্যের কারণেও হতে পারে। তাই এটিকে বিভাগগুলোর নির্ভুল অবস্থান নির্দেশক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে সরাসরি এবং ৩০ শতাংশ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে। সরাসরি সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থনের হার ছিল ৭৫ দশমিক ৮ শতাংশ, আর মোবাইল ফোনে নেওয়া সাক্ষাৎকারে ছিল ৭৪ দশমিক ১ শতাংশ। ডেল্টাগ্রাম জানিয়েছে, এ দুই পদ্ধতির ফলাফলের মধ্যে পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য পাওয়া যায়নি। তবে সরকার পরিবর্তনের অল্প সময়ের মধ্যে সামনাসামনি সাক্ষাৎকারে উত্তরদাতারা তুলনামূলক নিরাপদ মনে করে মতামত দিতে পারেন—এ সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি নিশ্চিত হতে ভবিষ্যতে আরও জরিপ প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পদ্ধতিগতভাবে জরিপে দুই ধাপের স্তরভিত্তিক সম্ভাব্যতা নমুনা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। দেশের আটটি বিভাগের ১৫০টি প্রাথমিক নমুনা এলাকা থেকে জনসংখ্যার অনুপাতে নমুনা নির্বাচন করা হয়। প্রতিটি এলাকা থেকে ২০টি করে সাক্ষাৎকার নিয়ে মোট তিন হাজার মানুষের মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

জরিপের সাড়া দেওয়ার হার ছিল ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর বিভাগ, শহর-গ্রাম, লিঙ্গ, বয়স ও শিক্ষাগত তথ্যের ভিত্তিতে ফলাফল সমন্বয় করা হয়েছে। সমন্বয়ের আগে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থনের হার ছিল ৭৪ দশমিক ১ শতাংশ, যা সমন্বয়ের পর দাঁড়িয়েছে ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশ।

জরিপে আরও বলা হয়েছে, নমুনা নকশার প্রভাব বিবেচনায় জাতীয় পর্যায়ে সম্ভাব্য নমুনাগত ত্রুটির সীমা ৯৫ শতাংশ নির্ভরযোগ্যতার ভিত্তিতে প্রায় ২ দশমিক ১ থেকে ২ দশমিক ৪ শতাংশ। বিভাগভেদে এই ত্রুটির সীমা আরও বেশি, যা ঢাকা বিভাগে প্রায় ৪ শতাংশ এবং তুলনামূলক ছোট বিভাগগুলোতে প্রায় ৯ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

শেয়ার করুন

  • Facebook
  • Twitter
  • Digg
  • Linkedin
  • Reddit
  • Google Plus
  • Pinterest
  • Print
আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD