২০২৬ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত চার মাসে ভূমধ্যসাগরে প্রায় এক হাজার জন প্রাণ হারিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
সংস্থাটি জানায় জানায়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত শুধু মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় রুটেই ৭৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৬০ জনেরও বেশি।
আইওএম আরও জানায়, ২০২৬ সালে পুরো ভূমধ্যসাগর জুড়ে অন্তত ৯৯০ জনের মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে। সংস্থাটি এটিকে ২০১৪ সালের পর বছরের শুরুতে সবচেয়ে প্রাণঘাতী পরিস্থিতিগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ মার্চের পর থেকে অন্তত পাঁচটি পৃথক নৌকাডুবির ঘটনায় ১৮১ জন নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। গত রোববার খারাপ আবহাওয়ার কারণে একটি নৌকা ডুবে ৮০ জনের বেশি অভিবাসী নিখোঁজ হন। ১২০ জন যাত্রী নিয়ে নৌকাটি লিবিয়া থেকে ছেড়ে এসেছিল।
একটি বাণিজ্যিক জাহাজ ও টাগবোট জীবিতদের উদ্ধার করে পরে ইতালীয় কোস্টগার্ডের সহায়তায় ল্যাম্পেদুসা দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপে প্রবেশের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই ল্যাম্পেদুসা দ্বীপে পৌঁছাতে গিয়ে প্রতিবছর হাজারো অভিবাসী প্রাণ হারান।
এর আগে ১ এপ্রিল আরেকটি নৌকাডুবির ঘটনায় ল্যাম্পেদুসার উপকূলে একটি নৌযানে অন্তত ১৯ জনের মরদেহ পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ৫৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও অনেকের অবস্থা ছিল গুরুতর। বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা জানান, নৌকাটি জুয়ারা (Zuara) থেকে ২৮ ও ২৯ মার্চের মধ্যরাতে যাত্রা শুরু করেছিল।
আইওএম প্রধান এ্যামি পোপ (Amy Pope) বলেন, “এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলো আবারও দেখিয়ে দিচ্ছে, বিপজ্জনক পথে এখনও অনেক মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “জীবন রক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। পাশাপাশি মানবপাচারকারী ও দালালদের হাত থেকে দুর্বল মানুষদের রক্ষা করতে এবং নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের পথ বাড়াতে সমন্বিত ও শক্তিশালী উদ্যোগ প্রয়োজন—যাতে কাউকেই আর এমন প্রাণঘাতী যাত্রায় বাধ্য হতে না হয়।”
সূত্র: আল জাজিরা