বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৩:০০ পূর্বাহ্ন

‘লাইগো-ইন্ডিয়া’ মহাকাশ গবেষণায় ভারতের নতুন যুগের সূচনা

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ৫:২৭ am

মহাকর্ষীয় তরঙ্গ সনাক্তকরণে যুগান্তকারী এক উদ্যোগ হাতে নিয়েছে ভারত। লেজার ইন্টারফেরোমিটার গ্র্যাভিটেশনাল-ওয়েভ অবজারভেটরি (এলআইজিও-লাইগো) প্রকল্প ২০৩০ সালের মধ্যে নির্মিত হবে। যা মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন যুগের দুয়ার খুলে দেবে। লাইগো হলো একটি আন্তর্জাতিক ল্যাবরেটরির নেটওয়ার্ক; যার উদ্দেশ্য মহাকর্ষীয় তরঙ্গকে শনাক্ত করা।

লাইগোতে দুটি বড় লেজার ইন্টারফেরোমিটার রয়েছে যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লুইসিয়ানা রাজ্যের হ্যানফোর্ড, ওয়াশিংটন ও লিভিংস্টনে অবস্থিত। ২০১৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত দুটি লাইগো লেজার ইন্টারফেরোমিটার প্রথম মহাকর্ষীয় তরঙ্গ শনাক্ত করে।

পারমাণবিক শক্তি বিভাগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ ইউএস ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্বে লাইগো-ইন্ডিয়া তৈরি হচ্ছে। ভারতের মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি জেলায় অবস্থিত লাইগো-ইন্ডিয়া ২০৩০ সালে তার বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম শুরু করতে চলেছে। আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে ভারতকে গড়ে তোলা ছাড়াও, এই প্রকল্পটি ভারতে বিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।

জানা গেছে, মুম্বই থেকে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার পূর্বে হিঙ্গোলি জেলায় প্রায় ৬০০ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হবে এই প্রকল্প।
এ জেলায় ইতোমধ্যে ১৭৪ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। গত ১১ মে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের প্রথম বিশেষ মানমন্দির, লাইগোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

এদিকে আমেরিকায় দুটি, জাপান ও ইতালিতে একটি করে মানমন্দির রয়েছে। এখন ভারতও যোগ দিতে চলেছে এই তালিকায়। শুধু তাই নয়, লাইগো-ইন্ডিয়া দুটি মার্কিন মানমন্দিরের সহযোগিতায় কাজ করবে। আগামী দিনে এই মানমন্দির দেশের শিক্ষার্থী ও বিজ্ঞানীদের গবেষণা ও অধ্যয়নের আরও ভালো সুযোগ দেবে। মহাকর্ষীয় তরঙ্গ মহাকাশে একটি অদৃশ্য, কিন্তু অত্যন্ত দ্রুত তরঙ্গ। মহাকর্ষীয় তরঙ্গ আলোর গতিতে ছুটে বেড়ায়। যার গতিবেগ প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১৮ লাখ ৬ হাজার মাইল।

পদার্থবিদ আলবার্ট আইনস্টাইন ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, যখন দুটি দেহ যেমন গ্রহ বা নক্ষত্র একে অপরকে প্রদক্ষিণ করে, তখন এই গতি মহাকাশে তরঙ্গ সৃষ্টি করতে পারে। এই ঢেউগুলো পুকুরে পাথর নিক্ষেপের তরঙ্গের মতো ছড়িয়ে পড়ে। বিজ্ঞানীরা এই তরঙ্গগুলোকে মহাজাগতিক মহাকর্ষীয় তরঙ্গ বলে থাকেন। এই তরঙ্গগুলো অনুধাবন করার জন্য লাইগো-ইন্ডিয়া তৈরি করা হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো ২০১৫ সালে মহাকর্ষীয় তরঙ্গ সনাক্ত করেন। এর জন্য লেজার ইন্টারফেরোমিটার গ্র্যাভিটেশনাল-ওয়েভ অবজারভেটরি (লাইগো) নামে সংবেদনশীল যন্ত্র ব্যবহার করেন। বিজ্ঞানীদের মতে, দুটি ব্ল্যাক হোলের সংঘর্ষে প্রথম মহাকর্ষীয় তরঙ্গের সৃষ্টি হয়েছিল। এই সংঘর্ষগুলো ১.৩ বিলিয়ন বছর আগে ঘটেছিল।

জানা গেছে, লাইগো ল্যাবরেটরি ভারতের তিনটি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় পরিচালিত হবে। এই তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো- ইন্দোরে রাজা রামান্না সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড টেকনোলজি, আহমেদাবাদের ইনস্টিটিউট ফর প্লাজমা রিসার্চ এবং পুনেতে ইন্টার-ইউনিভার্সিটি সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

শেয়ার করুন

আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD