কুমিল্লার বরুড়ায় ধর্ষণের পর ৯ বছরের শিশু নাদিয়া সুলতানা ইমুকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় আসামি মো. জসিম উদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার কুমিল্লার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এই রায় প্রদান করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত এই রায় ঘোষণা করেন বলে সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্রে জানা গেছে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, কয়েক বছর আগে বরুড়া উপজেলার একটি এলাকায় শিশু নাদিয়া সুলতানা ইমুকে কৌশলে ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এবং পরিচয় গোপনের উদ্দেশ্যে শিশুটিকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এই পৈশাচিক ঘটনার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। স্থানীয় জনসাধারণ দ্রুত আসামিকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। পুলিশ নিহতের পরিবারের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই অভিযুক্ত মো. জসিম উদ্দিনকে আটক করে।
তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করলে মামলার বিচারকার্য শুরু হয়। দীর্ঘ শুনানিতে সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ এবং চিকিৎসক ও তদন্তকারী কর্মকর্তার দেওয়া প্রমাণের ভিত্তিতে আসামির বিরুদ্ধে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। আদালত আজ রায় ঘোষণাকালে অভিযুক্ত জসিম উদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ছাড়াও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। অনাদায়ে আরও মেয়াদের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই রায়ের প্রতিক্রিয়ায় নিহতের পরিবার কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করলেও ন্যায়বিচারের স্বার্থে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে। অন্যদিকে, সচেতন নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীরা মনে করছেন, এ ধরনের কঠোর রায় সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমাতে এবং শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে এবং নারী ও শিশুদের ওপর এ ধরনের নৃশংস অপরাধের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার ওপর জোর দিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক