যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পরোক্ষ আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে পতন হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। এই নিয়ে টানা তিন কার্যদিবস তেলের বাজারে এই নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রইল। খবর রয়টার্সের।
বিশ্বের মোট খনিজ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ নিয়ন্ত্রণকারী কৌশলগত হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দোহায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্সে’ এক পোস্টে জানান, গত জুনে যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের বিভিন্ন শর্তের বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। যদিও এই আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে কোনো স্থায়ী শান্তির আভাস এখনও মেলেনি। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার এই ইঙ্গিতই বাজারের চাঙাভাব কমিয়ে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৫৬ মিনিট পর্যন্ত ‘ব্রেন্ট ক্রুড’ ফিউচার্সের দাম আউন্সপ্রতি (ব্যারেলপ্রতি) ৭৭ সেন্ট বা ১.১ শতাংশ কমে ৭০.৮০ মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট’ ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৪ সেন্ট বা ১.২ শতাংশ কমে ৬৭.৭৪ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। এর আগের কার্যদিবসেও দুই বেঞ্চমার্কেরই দাম ১ শতাংশের বেশি কমে চার মাসের সর্বনিম্ন স্তরে গিয়ে ঠেকেছিল।
চীনভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণকারী সংস্থা ‘হাইতং ফিউচার্স’ এক নোটে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকা এবং অপরিশোধিত তেলের প্রবাহ অব্যাহত থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের উদ্বৃত্ত সরবরাহ নিয়ে আমদানিকারকদের উদ্বেগ দূর হচ্ছে। এর ফলে বাজারে অংশীদারিত্ব ধরে রাখার প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ায় তেলের দাম ক্রমাগত কমছে। এছাড়া আগামী রোববার তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেকের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে আগামী আগস্ট মাস থেকে তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা আরও বাড়ানোর বিষয়ে দেশগুলো একমত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই সমঝোতা এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বৃদ্ধির বিষয়টিকে আমলে নিয়ে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বহুজাতিক ব্যাংক ইউবিএস আজ ব্রেন্ট ক্রুডের দামের পূর্বাভাস কমিয়ে দিয়েছে। ব্যাংকটি চলতি বছরের সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দামের পূর্বাভাস ব্যারেলপ্রতি ২৫ ডলার এবং ডিসেম্বর প্রান্তিকের জন্য ১০ ডলার কমিয়েছে। নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলার এবং ২০২৭ সালে তা গড়ে ৭৫ ডলারে নেমে আসতে পারে।
তবে ইউবিএস এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখনই সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে গেছে এমনটা ভাবা ভুল হবে। পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী তেলের ট্যাংকারের তুলনায় সেখান থেকে বের হওয়া ট্যাংকারের সংখ্যা এখনো কম। ফলে তেলের বাজারে আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে।