কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজধানী ঢাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। যে–কোনো ধরনের নাশকতা, বিশৃঙ্খলা ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, সরকারের পক্ষ থেকে ঢাকাসহ আরও চারটি জেলাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকায় এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার দেখা যায়। ঢাকায় একযোগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবি।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল থেকেই রাজধানীর গুলিস্তান, প্রেসক্লাব, শাহবাগ, মতিঝিল, ফার্মগেট, পান্থপথ ও ধানমন্ডি এলাকায় পুলিশের পর্যাপ্ত সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী বলেন, যেসব এলাকায় জনসমাগম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে সেসব এলাকায় সকাল থেকেই পুলিশের পর্যাপ্ত সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর গুলিস্তান, প্রেসক্লাব এলাকা, শাহবাগ, মতিঝিল, ফার্মগেট, পান্থপথ ও ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সহ ধানমন্ডির বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে। জায়গা জায়গায় চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সকাল থেকে পুলিশ সদস্যরা এসব এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ওইসব এলাকায় সদস্য সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এদিকে সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর পরিদর্শনে এসে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং পবিত্র মহরম মাসকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নাশকতা বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, এজন্য পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন, আজ ২৩ জুন একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। একইসঙ্গে মহরনম মাসও চলছে। কোনো ধরনের নাশকতা বা অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিজিবি ও সেনাবাহিনীও ঢাকা এবং আশপাশের কয়েকটি জেলায় দায়িত্ব পালন করছে।
এর আগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেন্দ্র করে সেনা মোতায়েনের জন্য চিঠি দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সোমবার (২২ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা-২ থেকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারকে এ চিঠি দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ বিভিন্ন সংগঠন দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচি করছে। এর মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পাশাপাশি জানমালের ব্যাপক ক্ষয়–ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
চিঠিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুর মহানগর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলায় শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের জানমালের সুরক্ষায় নয় দিনের জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক সেনা মোতায়েনের অনুরোধ করা হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২২ থেকে ৩০ জুন ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ হিসেবে সেনাসদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘অপতৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায়’ দেশের ছয় জায়গায় সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, কোন কোন জায়গায় তাদের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ) অপতৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে, সে বিষয়ে গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
অন্যদিকে, রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ডিএমপির পক্ষ থেকেও ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোতায়েন থাকবে ১৮ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাজধানীতে যে–কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুরো নগরীতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নগরের ২০০টির বেশি কৌশলগত স্থানে পুলিশের বিশেষ পিকেট ও চেকপোস্ট বসানো হবে। পাশাপাশি ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি ডিএমপির বিশেষায়িত ইউনিট ডিবি ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) সক্রিয় থাকবে। সাদা পোশাকে স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) ও আইএডি গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ১৫টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া, ঢাকার চারটি প্রধান কন্ট্রোলরুমে পর্যাপ্ত ফোর্স রিজার্ভ রাখা হবে।