সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৮:২৫ অপরাহ্ন

একবেলার বৃষ্টিতেই ‘পানির নিচে’ নিউমার্কেট, ব্যবসাতে ভাটা

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬ ৮:২১ pm

মধ্যদুপুর থেকে টানা কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিপাতে ডুবেছে রাজধানীর আজিমপুর পুরাতন কবরস্থান এলাকা। এমন অবস্থায় প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো সামনে এগোচ্ছে না। যানবাহনগুলোকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার তাড়া দিয়েও কোল লাভ হলো না পথচারীদের।

পথচারীদের উদ্দেশ্যে মুরুব্বি গোছের একজন জানান, বৃষ্টিতে রাস্তা তলিয়ে আছে। কয়েকটি প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে আটকে আছে। 

সোমবার (২৫ মে) দুপুরের আগে মুষলধারে বৃষ্টিতে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা নিউমার্কেটের প্রধান ফটকের সামনের রাস্তা তলিয়ে গিয়ে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়।

ব্যবসায়ীরা আশায় ছিলেন, ঈদের শেষ মুহূর্তের টুকটাক বেচাকেনায় কিছুটা হলেও লোকসান পুষিয়ে নেবেন। কিন্তু এক বেলার বৃষ্টিতে সে আশায় গুড়ে বালি।

ব্যবসায়ীরা জানান, এমনিতেই এবার ঈদে বেচাকেনা মন্দা। তার ওপর এই অকাল জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় পুরো দিনের ব্যবসাটাই লাটে উঠেছে। ক্রেতা আসা তো দূরের কথা, দোকানের মালপত্র বাঁচানোই এখন দায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, টানা ভারী বৃষ্টির কারণে নিউমার্কেট এলাকা ছাড়িয়ে নীলক্ষেত থেকে আজিমপুর কবরস্থান অভিমুখী সড়কটি এখন যেন এক চিলতে নদীতে পরিণত হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও ঈদযাত্রায় নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (২৫ মে) দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে শুধু ঢাকায়ই ৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তাকে ভারী বৃষ্টিপাত ধরা হয়। সে হিসাবে এ দিন রাজধানীতে বেশ ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল বলে জানায় অধিদপ্তর।

জলাবদ্ধতার কারণে নীলক্ষেত থেকে আজিমপুর কবরস্থান অভিমুখী সড়ক দিয়ে চলাচলকারী প্রাইভেটকার, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং মোটরসাইকেল আরোহীদের চরম বিপাকে পড়তে দেখা যায়। নোংরা পানি ঠেলে চলতে গিয়ে হঠাৎ করেই যানবাহনের ইঞ্জিন মাঝ রাস্তায় বন্ধ হয়ে যেতেও দেখা যায়। নিউমার্কেটের বিপরীত দিকের রাস্তায় একটি প্রাইভেটকার অসহায় দাঁড়িয়ে ছিল প্রায় ডুবন্ত অবস্থায়।

এই চরম দুর্ভোগের মাঝেও একশ্রেণির মানুষের উপার্জনের পথ তৈরি হয়েছে। রাস্তায় পানি জমে থাকায় সাধারণ পথচারীদের পারাপারের জন্য এগিয়ে এসেছেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকরা। জনপ্রতি ১০ টাকার বিনিময়ে তারা সাধারণ মানুষকে এই কৃত্রিম নদী ‘পারাপার’ করে দিচ্ছেন।

ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার জন্য বের হলেন রহিম মিয়া। তিনি বলেন, ঈদের ছুটিতে ভালো কাপড়-চোপড় পরে আনন্দের সঙ্গে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিলাম। কিন্তু এসে দেখি চারদিকে পানি থৈ থৈ করছে। নোংরা পানির ছিটায় নতুন কাপড় নষ্ট হওয়ার উপক্রম। 

স্থানীয় নজরুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন সরকারের সময় প্রতি বছর জলাবদ্ধতা নিরসনে রাস্তা খুঁড়ে মোটা মোটা পাইপ বসানো হলেও সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা ডুবে যায়, পানি নিষ্কাশন হয় না।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, এক বেলার বৃষ্টিতেই যদি বাণিজ্যিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকা স্থবির হয়ে পড়ে, সেখানে বছরের পর বছর ধরে চলা ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা আসলে কোথায় গেল? কবে এর সংস্কার হবে?

শেয়ার করুন

  • Facebook
  • Twitter
  • Digg
  • Linkedin
  • Reddit
  • Google Plus
  • Pinterest
  • Print
আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD