সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১২:৪২ অপরাহ্ন

চিড়া খাওয়া কি সত্যিই ক্ষতিকর? যা জানালেন পুষ্টিবিদ

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬ ১২:২৯ pm
চিড়া খাওয়া কি সত্যিই ক্ষতিকর? যা জানালেন পুষ্টিবিদ

‘চিড়ার পোলাও স্বাস্থ্যকর নয়’ বলে সম্প্রতি শেফদের কয়েকটি মন্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এরপরই নতুন চর্চা শুরু হয়, চিড়া স্বাস্থ্যকর নয়। অথচ যুগ যুগ ধরে বাঙালিরা নাশতা বা হালকা খাবার হিসেবে চিড়া খেয়ে আসছেন। এ অবস্থায় চিড়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়, ক্ষতিকর দাবি করায় উদ্বেগ বেড়েছে স্বাস্থ্য সচেতনদের।

চিড়া বাঙালির এতটাই পছন্দের খাবার যে, কেউ দই-কলা-মিষ্টি দিয়ে খান, কেউ চিড়ার লাড্ডু বানিয়ে খান, আবার কেউ পানিতে ভিজিয়ে চিনি বা গুড় দিয়ে খেয়ে থাকেন। এ ছাড়াও বিভিন্নভাবে খাওয়া যায় চিড়া। তবে এটি যদি মিষ্টি বা মিষ্টিজাতীয় কোনো কিছু দিয়ে খাওয়ার পর সুগার লেভেল বেড়ে যায়, ঠিক তখনই বিপদ।

ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিড়ায় রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট রয়েছে। এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ৫৫ থেকে ৭০-এর মধ্যে থাকে। এ জন্য অনেক সময় চিড়া খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আবার চিড়ায় ফাইবার ও প্রোটিনের মাত্রাও তুলনামূলক কম থাকে। এ জন্য রক্তে গ্লুকোজ শোষণের গতি ধীর থাকে।

চিড়া প্রক্রিয়াজাত একটি খাবার এবং এটি অল্পতেই হজম হয়। তবে অন্যসব শস্যদানার তুলনায় এটি কম স্বাস্থ্যকর। এ জন্য রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এ বিষয়ে পুষ্টিবিদ ঈশানী গাঙ্গুলি বলেছেন, চিনি-বাতাসা বা গুড়ের মতো মিষ্টি উপাদান দিয়ে চিড়া খাওয়া হলে সুগার বাড়বেই। এ জন্য নিয়ম মেনে স্বাস্থ্যকর উপায়ে খেতে হবে। চিড়া তুলনামূলক কম স্বাস্থ্যকর হলেও ডায়াবেটিসের রোগীরা এটি খেতে পারেন। চিড়া খাওয়ার ভালো উপায় হচ্ছে উপমা তৈরি করে খাওয়া।

উপমা হচ্ছে অত্যন্ত সুস্বাদু, স্বাস্থ্যকর এবং ঝরঝরে হালকা নাশতাজাতীয় খাবার। এতে কোনো চিনি বা আর্টিফিশিয়াল সুইটনার ব্যবহার করা হয় না। বরং এতে বিভিন্ন ধরনের সবজি ও মশলা ব্যবহার করা হয়। পুষ্টিবিদ ঈশানী বলেন, চিড়ার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশি। তবে এতে রকমারি সবজি যোগ করা হলে তখন ভারসাম্য ঠিক থাকে। সবজিতে থাকা ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। এ জন্য সুগার লেভেল বাড়া নিয়ে ভয় থাকে না।

এছাড়া অনেকেই দই দিয়ে চিড়া খেতে পছন্দ করেন। এ ক্ষেত্রে টকদই দিয়ে খাওয়া ভালো। সঙ্গে কলা বা শর্করা বেশিজাতীয় ফল খাওয়া যাবে না। ডায়াবেটিস থাকলে খাওয়া বন্ধের প্রয়োজন নেই। এ জন্য সঠিক উপায়ে পরিমিত খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। তবেই উপকার মিলবে।

শেয়ার করুন

  • Facebook
  • Twitter
  • Digg
  • Linkedin
  • Reddit
  • Google Plus
  • Pinterest
  • Print
আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD