ইরান ইস্যুতে দ্বন্দ্বের জেরে ন্যাটো জোটসঙ্গী জার্মানি থেকে নিজেদের ৫ হাজার সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শিগগরই এই প্রত্যাহর শুরু হবে বলে শুক্রবার এক ঘোষণায় জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর পেন্টাগন।
গত সোমবার এক অনুষ্ঠানে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ ম্যার্ৎস বলেছিলেন, দুই মাস ধরে চলা যুদ্ধ শেষ করার আলোচনায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে অপমান করেছে এবং এই যুদ্ধ থেকে কীভাবে, কোন কৌশলে বের হতে হবে— তা বুঝতে পারছে না ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ ব্যাপারে রয়টার্সকে বলেন, “জার্মানির চ্যান্সেলরের এই বক্তব্য অনুচিত এবং অসহযোগিতাপরায়ন। (সেনা প্রত্যাহারের মধ্যে দিয়ে) আমাদের প্রেসিডেন্ট এ ধরনের নেতিবাচক অনুৎপাদনশীল কথাবার্তার যথাযথ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন।”
তিনি আরও জানান, আগামী ৬ মাস থেকে এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন হবে এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়া।
ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি। ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ এ দেশটিতে প্রায় ৫০টি সেনাঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের; আর এসব ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনায় রয়েছেন প্রায় ৩৫ হাজার মার্কিন সেনা। ইউরোপের আর কোনো দেশে যুক্তরাষ্টের এত সামরিক ঘাঁটি ও সেনাসদ্য নেই।
পেন্টাগনের ওই কর্মকর্তা বলেছেন, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করার পর জার্মানির অনুরোধে দেশটিতে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। যুক্তরাষ্ট্র ৫ হাজার সেনা প্রত্যাহার করে নিলে জার্মানির মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে সেনাদের উপস্থিতি আবার রাশিয়-ইউক্রেন যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।