পঞ্চগড়সহ উত্তরের জেলাগুলোতে শরতকে বিদায় এবং শীতকে স্বাগত জানিয়ে হেমন্ত এসেছে তার চিরচেনা রূপে। তাইতো শীতের আগমনে চিরচেনা প্রকৃতি তার রূপ পাল্টিয়ে ফিরেছে আপন রূপে। রাতভর হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা সকাল পর্যন্ত চাদরের মতো বিছিয়ে থাকছে দিগন্তজুড়ে। কমতে শুরু করেছে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও।
গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরেই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করছে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার। প্রতিদিনই নামছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। মঙ্গলবার এখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার তা নেমে এসেছে ২০ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। বৃহস্পতিবার রেকর্ড করা হয় ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবার রেকর্ড করা হয়েছে ১৯ দশমিক চার ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। সেই সাথে নামছে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নেমে আসতে থাকায় এখন দিনে আর প্রচণ্ড গরম অনুভূত হচ্ছে না।
বিকেল থেকেই উত্তরের হালকা হিমেল বাতাসে শুরু হয় শীতের পরশ। সন্ধ্যার থেকেই শুরু হচ্ছে হালকা কুয়াশা। রাত বাড়ার সাথে সাথে হালকা কুয়াশা রূপ নিচ্ছে মাঝারিতে। সকালে গাছের পাতায় শিশিরবিন্দু জমে থাকছে অনেক বেলা অবধি। শুক্রবার ভোরে বিভিন্ন জায়গায় দেখা মিলেছে কুয়াশার। ফসলের মাঠে উঁকি দিচ্ছে নতুন বীজের প্রস্ফুটিত চারা। তাতে শিশিরবিন্দু ছড়িয়ে দিচ্ছে মৃদু শীতলতা।
স্থানীয়রা জানান, ভোরে বেশ কুয়াশা পড়ছে। এখন আর রাতে ফ্যান চালানো যাচ্ছে না। রাতে কাঁথা/পাতলা কম্বল জড়াতে হচ্ছে শরীরে। ভোর পর্যন্ত শীতের পরশ অনুভব হচ্ছে। তবে ঘন কুয়াশা এবং তীব্র শীত আসতে দেরি আছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ জানান, মৌসুমি বায়ু ধীরে ধীরে বিদায় নিতে শুরু করায় আকাশ পরিষ্কার হচ্ছে। সেই সাথে উত্তরের বাতাস শুরু হওয়ায় শুরু হয়েছে শীতের আমেজ। সামনের দিনগুলোতে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে আরও কমতে শুরু করবে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে উত্তরের জেলাগুলোতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির মেঘ কেটে গেলে পুরো শীত নামবে। তেঁতুলিয়ায় কয়েকদিন ধরেই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে।
এখন দিনের বেলা তাপমাত্রা কিছুটা বেশি থাকার কারণে এসি-ফ্যান চালালেও সন্ধ্যার পর থেকেই এগুলোর সুইচ অফ রাখতে হচ্ছে। শুরু হয়েছে শীতের পুরো প্রস্তুতি। শীতের প্রস্তুতি হিসেবে এরই মধ্যে শীতের সম্বল লেপ তৈরি শুরু করে দিয়েছেন উচ্চ ও মধ্যবিত্তরা। জেলা শহরের লেপহাটি হিসেবে পরিচিত কদমতলায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন লেপ তৈরির কারিগররা। একেকটি দোকান প্রতিদিন ২৫-৩০টি করে লেপ সেলাই করছে।
এদিকে, শীতের আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক। মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, লাউ, টমেটো, লাল শাকসহ বিভিন্ন ধরনের আগাম শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছে।
পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের প্রধান তোহিদুল বারী বাবু জানান, তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। শীতের আগমন ঘটছে। কার্তিকের আগমনীতেই দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করেছে শীত। উত্তরের জেলা হিমালয়কন্যা পঞ্চগড়ে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত অনুভূত হতে শুরু করেছে শীতের পরশ। ঘাসের ডগায় জমছে শিশিরবিন্দু পায়ের স্পর্শে অনুভূত হচ্ছে ঠাণ্ডা। ভোরের সূর্যোদয়ের মধ্য দিয়ে মিষ্টি রোদ আর সবুজ ঘাসের পাতার ওপর শিশিরবিন্দু জানিয়ে দিচ্ছে দরজায় কড়া নাড়ছে শীত।
পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, হিমালয়কন্যা হিসেবে পরিচিত আমাদের পঞ্চগড়ে অন্য জেলার তুলনায় আগেই শীত শুরু হয়। কয়েকদিন ধরে শীতের আমেজ অনুভূত হচ্ছে। শীত নিয়ে দুস্থ ও খেটে খাওয়া মানুষের দূর্ভোগ লাঘবে প্রতিবছরের মতো এবারও আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। আমরা শীতের কম্বলসহ পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের চাহিদা জানিয়ে চিঠি দিয়েছি।