শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:১৫ অপরাহ্ন

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে জালিয়াতি, ২৬ আসামি রিমান্ডে

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬ ২:৫৯ pm

গাইবান্ধায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ জালিয়াতির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ২৬ আসামির প্রত্যেকের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে গাইবান্ধার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এর আগে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. সোহান মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে প্রত্যেক আসামির পাঁচ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন। তবে শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের জন্য দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, রিমান্ডে এনে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ডিভাইস সরবরাহকারী, পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ মধ্যস্বত্বভোগী, প্রশ্ন সমাধানকারী এবং পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে থেকে রিয়েল-টাইম সাপোর্ট দেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্তে জোর তদন্ত চালানো হবে। বিশেষ করে পরীক্ষার আগে ও চলাকালীন সময়ের যোগাযোগ ব্যবস্থা, অর্থ লেনদেন এবং ডিভাইস সংগ্রহের উৎস খতিয়ে দেখা হবে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধা সদর থানায় দায়ের করা মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৪০ জন। এর মধ্যে ২৬ জন পুরুষ আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয়। মানবিক বিবেচনায় এবং শিশু সন্তানের বিষয়টি মাথায় রেখে ১১ জন নারী আসামির ক্ষেত্রে রিমান্ড আবেদন করা হয়নি। মামলার তিন আসামি এখনো পলাতক রয়েছে।

জানা গেছে, গাইবান্ধা সদরসহ পলাশবাড়ী ও ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ মোট ৫২ জন পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়। পরদিন এসব ঘটনায় তিন থানায় মোট পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়।‌ এর মধ্যে সদর থানার মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করছে। অপরদিকে পলাশবাড়ী থানায় দায়ের করা তিনটি মামলায় ১২ জন আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং সেখানেও পৃথকভাবে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

পলাশবাড়ী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমাদের তিনটি মামলায় চার নারীসহ মোট ১২ জন আসামি রয়েছেন। এর মধ্যে ৯ জনের সাতদিন এবং তিনজনের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আদালত এখনো শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেননি। আশা করছি বিজ্ঞ আদালত সুষ্ঠু ও সঠিক তদন্তের স্বার্থে রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করবেন।

গাইবান্ধা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর নজরুল ইসলাম বলেন, সদর থানার মামলায় ২৬ আসামির পাঁচদিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। আদালত শুনানি শেষে প্রত্যেকের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

তিনি আরও বলেন, রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পুরো চক্রের নেটওয়ার্ক উন্মোচনের চেষ্টা করা হবে। কারা ডিভাইস সরবরাহ করেছে, কারা বাইরে থেকে প্রশ্ন সমাধান করেছে এবং কারা পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছে-সব তথ্য বের করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলার সঙ্গে গাইবান্ধাতেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত (এমসিকিউ) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। জেলায় ৪৩টি কেন্দ্রে ৪০০-এর অধিক শূন্য পদের বিপরীতে পরীক্ষায় অংশ নেন ২৭ হাজার ৬৮৮ জন পরীক্ষার্থী।

শেয়ার করুন

আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD