দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণাসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
বুধবার (১১ অক্টোবর) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সঙ্গে সাক্ষাতে সংগঠনটির নেতারা এমন দাবি জানান।
এদিন তারা নির্বাচন ঘিরে সাম্প্রদায়িক সংঘাতের আশঙ্কায় সিইসিকে একটি স্মারকলিপি দেন।
এরপর লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত বলেন, আগামী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই অর্থে সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র তিন মাস বাকি। আমরাও আপনার মতো উৎসব ও আনন্দমুখর পরিবেশে সব দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণ আশা করতে চাই। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে চাই, আমাদের আড়াই কোটি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অতীত অভিজ্ঞতা মোটেই সুখকর ছিল না। একদিকে জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে সংসদে তাদের যথাযথ অংশীদারিত্ব-প্রতিনিধিত্ব থাকে না, অন্যদিকে নির্বাচনে ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু নারী-পুরুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে না।
হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ৯ দফা দাবি হলো-
১. ভারতের নির্বাচন কমিশনের অনুরূপ বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনকে অধিকতর শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের তাগিদে সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে যথাযথ সুপারিশমালা প্রেরণ করা।
২. নির্বাচনী ব্যালটে ‘না’ ভোটের ব্যবস্থা করা। যাতে সংসদকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের নিমিত্তে নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নে রাজনৈতিক দল ও জোট সতর্ক ভূমিকা পালন করে।
৩. সংখ্যালঘু ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে, প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনোরকম বাঁধার সম্মুখীন না হতে হয় এবং নির্বাচনী প্রচারণায় সমান সুযোগ পায় এ জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা।
৪. নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা। যদি কোনো প্রার্থী বা কোনো দল নির্বাচনে ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতাকে ব্যবহার করে তবে তার শাস্তির বিধান করা।
৫. নির্বাচনের পূর্বাপর সময়কালে ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও জননিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলাজনিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের তাগিদে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে পুলিশ, আনসার ইত্যাদি মোতায়েনের পাশাপাশি র্যাব ও বিজিবির নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা এবং ‘মনিটরিং সেল’ গঠন করা।
৬. নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সংখ্যালঘু নিরাপত্তায় গৃহীত যাবতীয় পদক্ষেপের বিষয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতা, নির্বাচনের প্রার্থীসহ প্রার্থীর সমর্থক সকলকে সম্যকভাবে অবহিতকরণ এবং রেডিও, টেলিভিশনে তা প্রচারের ব্যবস্থা করা।
৭. সব ধর্মীয় উপাসনালয় যথা- মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা, গির্জা নির্বাচনী প্রচার কাজে ব্যবহার নিষিদ্ধ করা।
৮. ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, বিবৃতি বা এ ধরনের যাবতীয় প্রচারণা বিশেষ ক্ষমতা আইন বা ক্ষতিকর কার্য হিসেবে অপরাধ গণ্যে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাৎক্ষণিকভাবে দায়ী ব্যক্তিদের প্রার্থীতা বাতিলের ব্যবস্থা করা।
৯. নারী সমাজের মতোই দেশের ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সব রাজনৈতিক দলের কাঠামোতে অন্যূন ৩০ শতাংশ সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে সংযোজিত করা হোক। একইসঙ্গে যুক্ত নির্বাচনের ভিত্তিতে সংসদে সংখ্যালঘুদের জন্য ১০০টি আসন সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া।