শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ০১:৪৬ অপরাহ্ন

সীমান্ত বন্ধ করা সত্ত্বেও কানাডায় ঢুকছেন প্রচুর শরণার্থী

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১২:১৫ pm

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা শরণার্থীদের স্রোত কমাতে— এ বছর দেশটির সঙ্গে একটি চুক্তি করে কানাডা। এ চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত দিয়ে কানাডায় শরণার্থী প্রবেশের সঙ্গে অনেক কমে যায়। প্রাথমিক অবস্থায় ধারণা করা হয়েছিল, এ চুক্তির মাধ্যমে কানাডায় শরণার্থীদের স্রোত থামানো গেছে।

তবে চুক্তিটির পাঁচ মাস পর দেখা গেছে— শরণার্থী হিসেবে কানাডায় আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা কমার বদলে বেড়েছে। এখন সীমান্ত দিয়ে আসার বদলে আশ্রয়প্রার্থীরা আসছেন প্লেনে করে, আবার অনেকে চোরাইভাবে সীমান্ত পার হয়ে আসছেন এবং আশ্রয় চাওয়ার আগ পর্যন্ত লুকিয়ে থাকছেন। অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা কয়েকজন ব্যক্তি বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

এ বিষয়টি দেখিয়েছে, যেসব দেশে মানুষ শরণার্থী হিসেবে যেতে চান; সেসব দেশ চাইলেই এটি বন্ধ করতে পারবে না। আবার সঙ্গে এটিও প্রকাশ পেয়েছে; অত্যাধিক মানুষ শরণার্থী হিসেবে আসলে কি ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হতে পারে। যেমন কানাডার টরেন্টোতে, এই গ্রীষ্মে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় ঘুমিয়েছেন।

উইনিপেগ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর শওনা লাবম্যান বলেছেন, ‘বাস্তবতা হলো সীমান্ত বন্ধ করার বিষয়টি নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান করে না। এটি শুধুমাত্র মানুষের মধ্যে আরও মরিয়াভাব তৈরি করে।’

বিশ্বের মধ্যে কানাডা অন্যতম দেশ যেটি শরণার্থীদের স্বাগত জানানো নিয়ে গর্ব করে। এছাড়া ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় ৫ লাখ স্থায়ী বাসিন্দা নিয়ে আসার পরিকল্পনাও রয়েছে দেশটির। কিন্তু কানাডা যেটি চায় না সেটি হলো— যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের যে চুক্তি আছে সেটির মাধ্যমে কেউ তাদের এখানে আসুক।

তা সত্ত্বেও শুধুমাত্র গত বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডায় এসেছিলেন ৩৯ হাজার শরণার্থী। যার বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রোক্সহ্যাম সড়ক দিয়ে কানাডার কিউবেক রাজ্যে প্রবেশ করেছিলেন। ওই রাজ্য সরকার পরবর্তীতে জানিয়েছিল, অধিক সংখ্যক শরণার্থীদের তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডায় শরণার্থীরা প্রবেশ করেন— কারণ দ্রুত গতিতে শরণার্থীদের অনুমোদন দেওয়ার ভালো রেকর্ড রয়েছে কানাডার। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় পাওয়ার বিষয়টি কঠিন ও সময়সাপেক্ষ হয়।

কানাডায় এখন যারা আশ্রয় চাইছেন তাদের মধ্যে বেশিরভাগই প্লেনে করে আসছেন। কেউ কেউ বিমানবন্দরে নেমেই আর কেউ কেউ অভিবাসন কেন্দ্রে গিয়ে কয়েক সপ্তাহ, কয়েক মাস পর গিয়ে আশ্রয়ের আবেদন করছেন। যেসব দেশের মানুষ আশ্রয় চাইছেন তাদের মধ্যে বেশিরভাগই মেক্সিকো, হাইতি, তুরস্ক, কলম্বিয়া এবং ভারতের নাগরিক।

ইউরোপসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে আশ্রয়ের বিষয়টি কঠিন হয়ে যাওয়ায় কানাডার দিকে ঝুঁকছেন মানুষ। কারণ এখানে সহজেই অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

শেয়ার করুন

আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD