বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৬:৪০ অপরাহ্ন

দাবানলের ঝুঁকি কমায় যেসব ছাগল

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৩ ৫:৩১ am

দাবানলের সামনে মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে৷ চিলির এক অঞ্চলে এক জীববিজ্ঞানী বুদ্ধি খাটিয়ে বেশ সহজ উপায়ে আগুনের প্রসার থামানোর ‘ফায়ারব্রেক’ সৃষ্টি করছেন৷ সফল প্রয়োগের পর বাকিদেরও সেই কৌশল শেখাচ্ছেন তিনি৷

এই হুইসেল ও খোরাক নাড়াচাড়ার শব্দ শুনে ছাগল প্রলোভন এড়াতে পারে না৷ কারণ, তারা সব সময়েই ক্ষুধার্ত থাকে৷ সঙ্গে সঙ্গে খেতে শুরু করে৷ সঙ্গে চলে কাজ৷ সেই কাজে যথেষ্ট দক্ষতার প্রয়োজন৷ সবার আগে চাই শক্তসমর্থ পেট৷ ছাগলের চার-চারটি পাকস্থলী রয়েছে৷ আর প্রায় সর্বভুকও হওয়া চাই৷ কচি সবুজ পাতা থেকে শুরু করে কাঁটায় ভরা গাছের কাণ্ড; কিছুতেই অরুচি নেই৷

রোসিও ক্রুসেস-এর ছাগলগুলি চিলির সান্টা হুয়ানা অঞ্চলের জঙ্গলে অপরিহার্য শ্রমিক হিসেবে কাজ করে চলেছে৷ প্রায় সব দাহ্য পদার্থ খেয়ে ফেলে এই প্রাণী দাবানলের আশঙ্কা কমিয়ে দিচ্ছে৷

রোসিও বলেন, বাছাই করা এলাকায় এক বৈদ্যুতিক কাঁটাতার ছাগল আটকে রেখে আগুনের পথে বাধা সৃষ্টি করতে সাহায্য করছে৷ হার্বিসাইড বা ভেষজ নাশক ব্যবহার না করেই সেটা সম্ভব হচ্ছে৷ বায়ো রিও অঞ্চলে দাবানলে প্রায় ৭০ শতাংশ জমি ধ্বংস হয়ে গেছে৷ সান্টা হুয়ানায় আমরা এভাবে নিজেদের সুরক্ষা দিতে পারি৷

গোটা বায়ো রিও অঞ্চলে গত বছর গ্রীষ্মকালে প্রায় সাড়ে চার লাখ হেক্টর জমি পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে৷ রোসিও ক্রুসেস-এর কৌশল কিন্তু কাজে লাগছে৷ তিনি ও তাঁর স্বামী ভিক্টর যে প্রায় ১৬ হেক্টর জমির দেখাশোনা করেন৷ তাদের ১৪০টি ছাগলের রাক্ষুসে খিদেই জায়গাটি রক্ষা করেছে৷ কিন্তু তাঁদের অনেক প্রতিবেশীর ভাগ্য ভালো ছিলো না৷ সেই আগুনে ২৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন৷ কর্তৃপক্ষকে সে সময় কয়েক শো দাবানল নেভানোর চেষ্টা করতে হয়েছে৷ ফলে গ্রামাঞ্চলের বদলে ছোটবড় শহরের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হয়েছে৷

রোসা সানসানা নেইরার বাসা মাত্র পাঁচ মিনিট দূরে৷ নিজের খামারেও ফায়ারব্রেক থাকলে ভালো হতো বলে আজ তিনি আক্ষেপ করেন৷ কয়েক মিনিটের মধ্যে দাবানলের গ্রাসে তাঁদের পারিবারিক ভবন যখন ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, তখন তাঁর স্বামী ও তিনি অসহায় অবস্থায় সেই দৃশ্য দেখেছেন৷ প্রায় তিন দশক ধরে এই দম্পতি মধুর ব্যবসা করেছেন৷ আগুনে বেশিরভাগ মৌমাছিও মরে গেছে৷ কয়েক মাস পরেও জমি পরিষ্কারের কাজ শেষ হয়নি৷

রোসা বলেন, সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে যাবার দশ দিন পর সৈন্যরা এসেছিলেন৷ প্রথম দিনেই আমরা চলে গিয়েছিলাম৷ তা না হলে আমরাও পুড়ে মরে যেতাম৷ সবাইকে একাই ধাক্কা সামলাতে হয়েছিল৷ প্রতিবেশীদের এই দশা রোসিও ক্রুসেসকে নিজের ছাগলগুলির প্রতি দরদ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে৷ জীববিজ্ঞানী হিসেবে তিনি বাকিদেরও কৌশলগত পশুচারণ শেখাচ্ছেন, যাতে তারাও দাবানল প্রতিরোধ করতে পারেন৷ এবার সরকারও ছাগল প্রকল্পে আংশিক অর্থায়ন করতে এগিয়ে এসেছে

শেয়ার করুন

আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD