বুধবার, ১২ জুন ২০২৪, ১০:২৫ অপরাহ্ন

অসহনীয় গরমে ঢাকার বাইরে বেড়েছে লোডশেডিং

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৪ ৬:১৫ am

বাড়তি চাহিদার সঙ্গে সমন্বয় করে উৎপাদন করতে না পারায় উৎপাদন ঘাটতি হচ্ছে বিদ্যুতের। এতে বিতরণ কম্পানিগুলোকে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। রাজধানী ঢাকায় লোডশেডিংয়ের পরিমাণ কম হলেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর পরিমাণ ব্যাপক। উপজেলা পর্যায়ে কোথাও কোথাও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্র বলছে, দেশে ও দেশের বাইরে দেড় শতাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনক্ষমতা ২৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। তবে সন্ধ্যায় পিক আওয়ারে সর্বোচ্চ সাড়ে ১৬ হাজার থেকে ১৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। ঘাটতি থাকছে তিন-সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে লোডশেডিং করে ঘাটতি পূরণ করা হচ্ছে।

জানা গেছে, সাগরে সামিট গ্রুপের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল সংস্কার শেষ হলে সেখান থেকে শিগগির গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে। ফলে দুই-তিন দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) খন্দকার মোকাম্মেল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, চাহিদামতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে। কয়লা থেকে সর্বোচ্চ উৎপাদন করা হচ্ছে। এলএনজি টার্মিনাল চালু হলে গ্যাসের সরবরাহ বাড়বে বিদ্যুৎ খাতে। তেলচালিত কেন্দ্রগুলোকে উৎপাদন বাড়াতে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানিয়েছেন, সামিটের এলএনজি টার্মিনাল শিগগির আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু করবে। এতে বিদ্যুতের ঘাটতি কমে যাবে। তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো বেশি সময় চালাতে চাই না। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় বাড়বে। গ্রীষ্মের প্রস্তুতি নেওয়া আছে। আশা করি, পরিস্থিতি ভালোই যাবে। সংকট হবে না।

অবশ্য দেশে বর্তমানে বিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা বেড়ে চাহিদার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। দফায় দফায় বেড়েছে বিদ্যুতের দাম। এরপরও প্রতিবছর বাড়ছে সরকারের ভর্তুকি। তবু নিশ্চিত হয়নি বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে এখনো প্রকৃতির ওপর নির্ভর করতে হয়। তাপমাত্রা কম থাকলে সবাই বিদ্যুৎ পায়। আর তাপমাত্রা বাড়লে মানুষকে লোডশেডিংয়ে ভুগতে হয়।

ঢাকার বাইরের লোডশেডিংয়ের খবর পেলেও রাজধানীতে এখনো তেমনভাবে লোডশেডিংয়ের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কম্পানির (ডেসকো) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. কাওসার আমীর আলী বলেন, রাজধানীতে এসির ব্যবহার বাড়ছে। এতে আমাদের বিতরণ এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে। তবে ঢাকায় চাহিদার পুরোটাই আমরা সরবরাহ করতে পেরেছি।

চট্টগ্রাম নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে। কয়েক দিন ধরে দিনে গড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। নগরসংলগ্ন হাটহাজারীর চৌধুরীহাটের পূর্বদিকে গত রবিবার রাত ১১টা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না।

ময়মনসিংহের গৌরীপুর, ঈশ্বরগঞ্জ ও নান্দাইল এই তিন উপজেলায় এখন নিয়মিত লোডশেডিং হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সাড়ে ১২টা পর্যন্ত গৌরীপুরের মাওহা ইউনিয়নের বীর আহম্মদপুর গ্রামের চার থেকে পাঁচবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করেছে। একই অবস্থা পার্শ্ববর্তী ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা পল্লী বিদ্যুতেরও।

রংপুরের গ্রামাঞ্চলে প্রতিদিন তিন থেকে চারবার বিদ্যুৎ যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন আট উপজেলার মানুষ। গ্রামবাসী বলছে, ইফতারের সময় প্রতিদিন বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের ফলে জমিতে ঠিকমতো সেচ দিতে না পারায় ধান চাষে সমস্যা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD